বাসস
  ২২ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৭

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: নৌমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে এর ভিত্তিতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরীঘাটে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ফেরীঘাট এলাকায় দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোড বহন, ফেরী থেকে সম্পূর্ণ আনলোডের আগেই নতুন গাড়ি ওঠার চেষ্টা, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা গাড়ি উঠানামা, ফেরী পন্টুনে পর্যাপ্ত রেলিং না থাকা, যাত্রী নামানোর আগেই গাড়ি ওঠানামা এবং সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা।

আজ সংসদে ফরিদপুর-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক ফেরীঘাট এলাকায় স্থাপিত ওয়ে স্কেল থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

তিনি বলেন, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ফেরীঘাট এলাকাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, নদীর পানির উচ্চতা অনুযায়ী ঘাটের মানসম্মত ঢাল (স্ট্যান্ডার্ড স্লোপ) তৈরি করে সারাবছর ফেরীঘাট মেরামত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফেরীতে ওঠা-নামার আগে প্রতিটি যানবাহনের ব্রেকসহ অন্যান্য যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কিনা তা চালকদের নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফেরী থেকে সব যানবাহন নামানোর পর নতুন করে গাড়ি ওঠানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া অদক্ষ চালক বা হেলপার দিয়ে কোনো অবস্থাতেই গাড়ি লোডিং-আনলোডিং করতে দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী আরও জানান, ফেরী পন্টুনের বাইরে মজবুত রেলিং স্থাপন, যাত্রীবাহী বাস ও হালকা যানবাহন থেকে যাত্রী নামিয়ে খালি গাড়ি ওঠানো-নামানো, এবং প্রতিটি ঘাট এলাকায় দৃশ্যমান স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, যানবাহন ওঠানামার সুবিধার্থে বিআইডব্লিউটিএ কারিগরি দিক বিবেচনায় এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে ফেরীঘাট সচল রাখছে।