বাসস
  ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১০
আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৯

সংসদে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ বিল উত্থাপন করেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৭ বছর বাতিলের লক্ষ্যে একটি বিল আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে বয়স নির্বিশেষে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব দেওয়ার আইনি পথ উন্মুক্ত হলো।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাস হয়। বিলটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট ধারাগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলটি মূল আকারেই পাস হয়।

নতুন আইনে গভর্নরের চার বছরের মেয়াদ এবং পুনর্নিয়োগের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর ১০ অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর ধারায় থাকা ৬৭ বছর বয়সসীমার শর্তটি স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়েছে, যেখানে বলা ছিল— কেউ ৬৭ বছর পূর্ণ করার পর আর গভর্নর পদে থাকতে পারবেন না।

আগের আইনে গভর্নর চার বছরের জন্য নিয়োগ পেতেন এবং পুনর্নিয়োগের সুযোগ থাকলেও ৬৭ বছর বয়সে বাধ্যতামূলক অবসর নির্ধারিত ছিল।

নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এই বয়সসীমা তুলে দেওয়ায় এখন থেকে যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে সরকার গভর্নর নিয়োগ বা বহাল রাখতে পারবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যাংক তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে গভর্নরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি যুক্তি দেন, বিদ্যমান বয়সসীমা অনেক সময় অভিজ্ঞ, দক্ষ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া অনেক দেশেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই। ফলে, এই সংশোধন আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।