শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): দেশের ক্ষয়প্রাপ্ত চাষযোগ্য জমি রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে আজ 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬' উত্থাপন করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন আইনটি অযৌক্তিক নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পের কারণে চাষযোগ্য জমির অব্যাহত ক্ষয় রোধে কার্যকর হবে।
বিল অনুযায়ী তামাক চাষ, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন করে, তিন বা ততোধিক ফসলের জমিতে নিষিদ্ধ করা হবে এবং এক ও দুই ফসলের জমিতে ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশের সব জমি (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ছাড়া) একটি জাতীয় জোন ভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠ যাচাই ব্যবহার করে জমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। ফসলী জমি, বিশেষ চাষযোগ্য অঞ্চল ও উচ্চফসলী জমি মূলত কৃষি কাজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া এগুলোতে অ-কৃষিকাজ করা যাবে না। মোট চাষযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অ-কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণের জন্য মাটি অপসারণ, জলাশয় ভরাট, পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংস নিষিদ্ধ থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও জরিমানা এবং প্রয়োজনে ভূমি মূল অবস্থায় পুনরুদ্ধার বাধ্যতামূলক। সব সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে আইন মেনে চলতে হবে। জেলা প্রশাসন অবৈধ জমি ব্যবহার ও নির্মাণ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল থাকবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি প্রযোজ্য, এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করা যাবে।
বিল পাশ হলে বাংলাদেশে আরও কাঠামোবদ্ধ ও বিজ্ঞান ভিত্তিক জমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হবে, যা উন্নয়ন, পরিবেশ ও কৃষি সংরক্ষণকে সামঞ্জস্য করবে।