বাসস
  ০১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫০

সংসদকে প্রাণবন্ত রাখার আশা সংসদ সদস্যদের 

ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের ঐতিহাসিক অর্জনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত রাখার আশা ব্যক্ত করেছেন।

তারা বলেন, গত সতেরো বছর তথাকথিত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ছিল না এবং ‘ভোট কারচুপি’র মাধ্যমে জাতীয় সংসদ কলঙ্কিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এখন নতুন একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাসহ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন।

পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে।

চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সমর্থন করেন হুইপ মিয়া নুরুউদ্দিন আহমেদ অপু।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে নরসিংদী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘এই অর্জন ধরে রাখতে আমরা জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত ও সার্বভৌম করতে চাই।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো যেন আর কেউ সংসদকে কলঙ্কিত করতে না পারে—যেখানে ভোট ছাড়াই নির্বাচন হয়েছে এবং রাতে ভোটগ্রহণের অভিযোগ ছিল।

খোকন বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এমনও দেখা গেছে যে সংসদের একজন বিরোধী দলের সদস্য স্পিকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি আসলে সরকার পক্ষের না বিরোধী দলের সদস্য।

বর্তমান সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে খুব কম সরকারই এমনভাবে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মাগুরা-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

কুমিল্লা-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য সেলিম ভূঁইয়া বলেন, গত সতেরো বছরে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ শব্দটি ব্যবহার করাও সম্ভব ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পাঠ্যবই থেকেও জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা হয়েছিল।

এ সময় সংসদ সদস্যরা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

চাঁদপুর-৫ আসনের মমিনুল হক, খুলনা-১ আসনের আমির এজাজ খান এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের শামীম কায়সারও আলোচনায় অংশ নেন।