শিরোনাম

সংসদ ভবন, ৩০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে গত ১৭ বছরে দেশের পরিস্থিতি ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল বলে স্বীকার করায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের সংসদ সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে দেশব্যাপী ব্যাপক দুর্নীতি, দুঃশাসন, অর্থপাচার, গুমসহ নানা ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া আইন প্রণেতারা বলেন, রাষ্ট্রপতিকে তাঁর এই স্বীকারোক্তির জন্য ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।
আজ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন।
খুলনা-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘যদিও দেরিতে, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে স্বীকার করেছেন যে, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় দেশে ব্যাপক দুর্নীতি, জোরপূর্বক গুম এবং হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ জন্য রাষ্ট্রপতি ধন্যবাদ প্রাপ্য।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাসে এমন গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাও তাদের অপরাধ স্বীকার করলে অনেক অমীমাংসিত বিষয় সমাধান হতে পারে।
বর্তমান সরকারের প্রশংসা করে হেলাল বলেন, রমজান মাসে দেশের বাজারে সকল ধরনের পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ছিল এবং ঈদুল ফিতরের আগেও এমন পরিস্থিতি গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে বিরল। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরেও দেশজুড়ে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে হেলাল বলেন, বিরোধীরা সরকারের সমালোচনা করছে, কিন্তু বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়নে আন্তরিক। বিএনপি জুলাই সনদের প্রথম স্বাক্ষরকারী ছিল এবং সরকার এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সরকারি দলের সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে গত ১৭ বছরের দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সত্যিকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, সরকার জুলাই সনদ সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে।’
ফরিদপুর-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য এম শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আমাদের মূল দাবি, কিন্তু আমরা সংবিধান সংশোধন আদেশকে জুলাই সনদের নামে সমালোচনা করছি।’
আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য শওকাতুল ইসলাম (মৌলভীবাজার-২), শফিকুল হক মিলন (রাজশাহী-৩), আনিসুর রহমান (মাদারিপুর-৩), এস এম জিলানী (গোপালগঞ্জ-৩), কামরুজ্জামান কামরুল (সুনামগঞ্জ-১), এম মোস্তাফিজুর রহমান (জামালপুর-৩) এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সৈয়দ (জয়পুরহাট-১)।