শিরোনাম

আল-আমিন শাহরিয়ার
ভোলা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): বহুল প্রতীক্ষিত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ভোলার চারটি আসনের সবকটিতেই বিএনপি জোটের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা ভোলার চারটি সংসদীয় আসনের সবকটিতে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবারের শাসরুদ্ধকর এ নির্বাচনের ফলাফলকে মেনে নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ'সহ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সব রাজনৈতিক দলগুলো।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জেলার চারটি আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।
রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী চারটি আসনেই বিজয়ীদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা।
এদিকে, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ভোলার চারটি আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থীগণ বাসসের মুখোমুখি হয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ভোলা-১ আসনে বিজেপি চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ১,০৪,৪৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩,৭৭৩ ভোট।
ভোলা-১ সদর আসনের বিজয়ী সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে বাসসকে বলেন, ভোলার উন্নয়নের রুপকার ও সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আমার শ্রদ্ধেয় বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর ভোলা সদরের মানুষ অত্যন্ত স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য বানিয়েছিলেন। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য থাকায় তখন এলাকার উন্নয়ন করতে দেয়নি শোষক জুলুমবাজ সরকার। সেই মানুষগুলো আমাকে ও আমার মরহুম বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এবং গভীর ভালোবাসা দেখিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে আমাকে বিপুলভোটে ফের সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। তাই আমি দ্যার্থহীন কন্ঠে বলবো এ বিজয় ভোলার মানুষের বিজয়।
এ বিজয়ের একমাত্র দাবিদার আমার প্রাণের ভোলাবাসী। যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাই তাহলে আমার জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমার হৃদয়ের ভোলাবাসীর জন্য তাদের সেবক হয়ে কাজ করে যাবো। অবহেলিত ভোলার মানুষের মৌলিক অধিকারসহ অবকাঠামোগত একগুচ্ছ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করবোই ইনশাআল্লাহ।
এগুলোর মধ্যে ভোলায় আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মেডিকেল কলেজ, ভোলা-বরিশাল স্বপ্নের সেতু, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম ব্যবহার, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণ এবং ইপকূলীয় এ জেলাকে দক্ষিণাঞ্চলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান কাজ। এখানকার মানুষগুলোই হচ্ছে আমার পরিবার। আমার আগামীর পথচলা, হাসি, কান্না, সু:খ-দূ:খ আনন্দ-বেদনার সবকিছুই তাদের সাথে ভাগাভাগি করে চলবো।
ভোলা-২ আসনে (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) সাবেক এমপি ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম ১,২১,০০৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুফতি ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩,৪৯৮ ভোট।
কথা হয় ভোলা-২ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের সাথে। তিনি বাসসকে বলেন, অতীতের মতো এখানকার আপামর জনগণ আমাকে যেভাবে নি:স্বার্থভাবে ভালোবেসে ফের সংসদ সদস্য বানিয়েছেন, যা নজিরবিহীন এক অভূতপূর্ব সমর্থনের বহি:প্রকাশ। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততোদিনই আমি আমার প্রিয় জনগণের পাশে থাকবো। অতীতের চেয়ে এখন এলাকায় আরো ব্যাপক উন্নয়ন করবো। আমার হৃদয়ের মানুষগুলোর সুখ-দুঃখের সারথি হয়ে থাকবো আজীবন।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ১,৫১,৭৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ফুলকপি প্রতীকের নিজামুল হক নাঈম পেয়েছেন ৫৫,৬৬০ ভোট। অর্থাৎ ৯৬,১১৪ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
ভোলা-৩ আসনের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বাসসকে বলেন-আমার এলাকার মানুষ এবারসহ আমাকে মোট ৭ বার সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। আমি তাদের কাছে ঋণী হয়ে গেলাম। জীবনসায়াহ্নের বাকি সময়টুকু আমি আমার এলাকার প্রিয় মানুষগুলোর উৎসর্গ করলাম। আমি মনে করি আমার মতো একজন নগণ্য মানুষের প্রতি জনগণের নজিরবিহীন ভালোবাসা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নি:স্বার্থভাবে কাজ করবো।
ভোলা-৪ আসনে (চরফ্যাশন-মনপুরা) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ১,৯০,০০৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮২,৩৯৮ ভোট।
ভোলা-৪ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বাসসকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, জীবনে প্রতথমবারের মতো আমার জনপদের জনগণ যেভাবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে বিপুলভোটের ব্যবধানে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। তাই আমার আগামী জীবনের প্রতিটি মুহুর্তই হবে চরফ্যাশন-মনপুরাবাসীর উন্নয়ন করা এবং তাদের সাথে বুকে-বুক ও হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা।
এদিকে ভোলার চারটি আসনে বিজয়োল্লাস না করে বিএনপি জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ তাদের স্ব স্ব এলাকায় শুকরিয়া জ্ঞাপন ও মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বাদ জুমা প্রত্যেক মসজিদে দোয়া মোনাজাত করা হয়েছে।