বাসস
  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২২

বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ভোটগ্রহণ

ছবি : বাসস

বগুড়া, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সকাল হওয়ার আগেই অনেক ভোটার ছুটে যান কেন্দ্রে। কোথাও কোথাও ফজরের নামাজের পর থেকেই কেন্দ্রমুখী মানুষের ঢল নামে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে সকাল সাতটার আগে থেকেই নারী ও পুরুষের লম্বা লাইন চোখে পড়ে।

ভোটকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা, দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এবং ভোটারদের মুখে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও আশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সকালে নারী, বয়স্ক ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগকে অনেকেই দেখছেন নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আনন্দ হিসেবে।

বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী নূর মোহাম্মদ বলেন, আগের তিনবার ভোট দিতে পারিনি। এবার সুষ্ঠু ভোট হবে সেই আশায় ফজরের নামাজ আদায় করেই ভোটকেন্দ্রে চলে আসছি।

শহরের হাসনাজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাটনারপাড়া সেন্ট্রাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, করনেশন ইন্সটিটিউশন ভোট কেন্দ্রগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। শহর ছাড়াও গ্রামের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে সকাল থেকেই।

সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার তৌফিকুর রহমান। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে।

বগুড়া জেলায় ১২টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভা রয়েছে। সাতটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাপাসহ বিভিন্ন দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এই ৭টি আসনে ৯৮৩টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন, নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন। জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৫ হাজার ৪৭৮টি যার মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮টি স্থায়ী এবং ৩৩০টি অস্থায়ী।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান জানান, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে আড়াই হাজারেরও বেশি পুলিশ, সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি আনসার ও ভিডিপি, ২৪ প্লাটুন বিজিবি, দেড় হাজারেরও বেশি সেনা সদস্য এবং আড়াইশোর বেশি ব্যাটালিয়ন আনসার দায়িত্বে রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন এ ব্যাপারে প্রশাসন সকল ধরনের সহযোগিতা এবং নজরদারি নিশ্চিত করেছে।