বাসস
  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩

খুলনার ৩৬ আসনে ২০৩ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ আজ

ছবি : সংগৃহীত

 মুহাম্মদ নূরুজ্জামান  

খুলনা, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : খুলনা বিভাগের দশ জেলায় এবং খুলনা মহানগরীর মোট ৩৬টি আসনে এবারের নির্বাচনে ২০৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এসব আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। তবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। কিছু আসনে ত্রি-মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। 

খুলনা বিভাগের দশ জেলায় বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন। এরমধ্যে ৭০ লাখ ৩৬ হাজার ৪১৩ জন পুরুষ এবং ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১৩৪ জন।

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তারা মনে করেন, ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকেই নির্বাচিত করতে পারবেন। 

খুলনা জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২০ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫১, মহিলা ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৫ ও তৃতীয় লিঙ্গের ২৭ জন ভোটার রয়েছেন। ৬টি আসনে এবার ৩৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

এই আসনগুলোতে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারাও আশাবাদী। 

প্রার্থীরা বাসসকে বলেন, যে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য কেন্দ্রে গেছে, কেউ তাদের বাধা প্রয়োগ করবে না। তারা স্বাধীনভাবে যাবে এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবে। আমার প্রত্যাশা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও ভয়ভীতি, শংকামুক্ত একটি পরিবেশ। যেখানে কালো টাকার কোনো ছড়াছড়ি থাকবে না। এখানে মানুষ স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। 

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও থাকবে চমৎকার। এমন একটি উন্নয়ন ঘটানো দরকার যাতে মানুষ স্বস্তির সঙ্গে সেখানে যেতে পারে। প্রশাসন কারোর পক্ষাবলম্বন করবে না। নির্বাচন কমিশনে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারাও একেবারে নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এটাই আমার এবং ভোটারদের প্রত্যাশা। 

বাগেরহাটের ৪টি আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৭ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৩ জন, মহিলা ও তৃতীয় লিঙ্গের ১২ জন ভোটার রয়েছেন। বাগেরহাটের ৪টি আসনে ২৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

সাতক্ষীরার ৪টি আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৬৭ জন, পুরুষ ও ৯ লাখ ৬ হাজার ৪৪ জন মহিলা এবং ১৪টি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। সাতক্ষীরায় মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৬ জন। এরমধ্যে ১২ লাখ ২৪ হাজার ৮৩ জন পুরুষ ও ১২ লাখ ২২ হাজার ১৫৯ জন মহিলা এবং ২৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। যশোরে ৬টি আসনে ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

চুয়াডাঙ্গায় দুটি আসনে মোট ভোটার ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২ জন এবং ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৬ জন মহিলা ও ১২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এ দুটি আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নড়াইল জেলায় দুটি আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭০২ জন। এরমধ্যে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৬ জন পুরুষ এবং ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭১ জন মহিলা ও ৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। নড়াইলের ২টি আসনে ১৬ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঝিনাইদহ জেলার চারটি আসনে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭১ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯ পুরুষ ও ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৬ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন। ঝিনাইদহের ৪টি আসনে ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাগুরা জেলার দুটি আসনে ভোটার ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ২২ হাজার ৫০৩ জন এবং মহিলা ৪ লাখ ১৭ হাজার ২৬৯ জন রয়েছেন। এই জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। মাগুরার ২টি আসনে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৭০ জন ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে, ৮ লাখ ৬১ হাজার ১৫৪ জন পুরুষ ও ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৩ জন মহিলা ভোটার এবং ১৩ জন তৃতীয় রিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ৪টি আসনে এবার ২৫ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

মেহেরপুর জেলায় আসন রয়েছে দুটি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৯০ হাজার ৬০৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩১ এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার, ৭৬৯ জন মহিলা ও ৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। মেহেরপুরের দুটি আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বাসসকে বলেন, খুলনাঞ্চলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে আমার প্রস্তুত। এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশাকরি ভালো নির্বাচন হবে।