শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ ভোটের উপকরণ বিকেল ৪টার মধ্যেই চট্টগ্রামের ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছে। প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এখন কেন্দ্রগুলোর বুথে গোপন কক্ষ তৈরি ও নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরিসহ ভোটগ্রহণের নানা প্রস্তুতির কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় জেলার সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমসহ আমরা সীতাকুণ্ড, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার সর্বশেষ প্রস্তুতিও সরেজমিনে পরিদর্শনে করেছি।
এদিকে ভোট উৎসবের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকা প্রার্থী ও ভোটারদের সময়ও শেষ হয়ে আসছে। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, ততই প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর হয়ে উঠছে চট্টগ্রামের নির্বাচনী মাঠ। রাত পেরুলেই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ। বুধবার বিকেলেও ভোট উৎসবে অংশ নিতে গ্রামমুখী মানুষের ঢল দেখা গেছে। মূলত মঙ্গলবার থেকেই অধিকাংশ মানুষ শহর ছাড়তে শুরু করেন। এ কারণে চট্টগ্রাম নগরী এখন অনেকটাই ফাঁকা।
আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে নগরীর কাজির দেউড়ি চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠ থেকে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বিকেল নাগাদ কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেন তারা।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, বুধবার সকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে ভোটকেন্দ্রের সরঞ্জাম বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিকেলে কেন্দ্রে বুথ তৈরিসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন তারা। এর আগেই উপজেলার আসনগুলোর নির্বাচনী সরঞ্জাম সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে এসব সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি দেখছি না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, পুরো চট্টগ্রাম জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ১১৫ জন জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে এবং তারা সার্বক্ষণিক টহল ও মুভমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কিছু অর্থ জব্দ করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনের লক্ষ্য কেবল ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রতিটি ভোটার যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন—সেই নিশ্চয়তা প্রদানই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
আজ মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিচালনা এবং একাধিক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম র্যাবের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। পরে তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার বিরুদ্ধে র্যাব কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিয়েছে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের মাধ্যমে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭০ জন। জেলার মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৯৬৫টি। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।