শিরোনাম

।। সুলতান মাহমুদ।।
নড়াইল, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): রাত ফুরোলেই ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন। অপেক্ষায় প্রার্থী ও ভোটাররাও। ভোটের মাঠে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যেমন ভোট চেয়েছেন প্রার্থীরা। তেমনি ভোটাররাও এবার নিজেদের আকাঙ্ক্ষার জায়গা নির্ধারণ করছেন। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যারা কাজ করতে পারবেন তাদেরকেই ভোট দেবেন তারা।
নির্বাচনের প্রাক্কালে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কথা হয় স্থানীয় ভোটারদের সাথে। বাসসের কাছে তারা তাদের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।
নতুন প্রজন্মের ভোটার ফাহিম শাহরিয়ার খান (২৪) বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কার কাজকে ত্বরান্বিত করতে গণভোট ও প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মাঝে আলাদা ধরনের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে আমাদের প্রত্যাশা আগামীর বাংলাদেশ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নড়াইলে মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক। পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে জেলায় অবস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে কাজ করবেন ভবিষ্যতের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।’
গোবরা বাজারের ব্যবসায়ী সুলতান মোল্যা বলেন, কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই যাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারি প্রশাসনের কাছে এটাই প্রত্যাশা করছি। আমাদের দুটি আসনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই। দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোটের আমেজ থাকায় ভোটারদের মাঝে অন্যরকম অনুভূতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে আমাদের প্রত্যাশা চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ অব্যাহত রাখা। এছাড়া নড়াইলে বিসিক শিল্পনগরী ও কলকারখানা স্থাপনপূর্বক বেকার সমস্যার সমাধান করা।
রূপগঞ্জ বাজারের চায়ের দোকানদার জামাল হোসেন বাসসকে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আগামীকালের ভোট নিয়ে মানুষ উৎসবে মেতেছে। ভোটে অংশ নিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ইতোমধ্যে চলে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং রাজনৈতিক সহাবস্থান কামনা করছি।’
জেলার দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে নড়াইল-২ আসনটি লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন, লোহাগড়া পৌরসভা ও নড়াইল পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ কারণে জেলার সার্বিক উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আসনটির।
এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ১৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৮ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৪ জন।
এ আসনের প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ড.এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যক্ষ মওলানা তাজুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী লায়ন নূর ইসলাম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. শোয়েব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন।
সম্প্রতি কয়েকজন প্রার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিজয়ী হলে অবহেলিত নড়াইলে মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছেন তারা। নড়াইলকে আধুনিক জেলায় রূপান্তর করে এক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়তে চান তারা।
তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ইকোনমিক জোন স্থাপন, শিল্প কলকারখানা স্থাপনপূর্বক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধান, লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যার উন্নয়নসহ সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালুকরণ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শহরে ফোর লেন সড়ক নির্মাণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি। জেলার অন্যতম সমস্যা নদী ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষি খাতে বিপ্লব সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তারা।
তবে নড়াইলের উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে বাদ যাননি নারীরাও। যখন দেশে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি প্রায় অনুচ্চারিত থেকে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে এই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত : নারীর ক্ষমতায়নের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শিল্প নির্মাণ, বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন ও বেকারদের কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প কলকারখানা স্থাপন করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন দুই একজন প্রার্থী। এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলে বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি নারীরাও কাজের সুযোগ পাবেন। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হলে সমাজে ভারসাম্য সৃষ্টি হবে। নারীরা তাদের প্রকৃত মর্যাদা পাবেন।
একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই প্রার্থী ও ভোটারদের এসব প্রত্যাশা পূরণ হবে বলেই আশাবাদী নড়াইলবাসী। তাই সবার চোখ এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে।