বাসস
  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৬

নীলফামারীর ৪টি আসনে ভোট গ্রহণে প্রস্তত ৫৬২টি কেন্দ্র

ছবি : বাসস

নীলফামারী, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ ইং উপলক্ষে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ৫৬২টি কেন্দ্র। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এসব কেন্দ্রে জেলার ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৩০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বুধবার এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের যাবতীয় সরঞ্জামাদি পাঠাতে শুরু করেছেন নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। দুপুরের পর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন যানবাহনে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে ছুটতে দেখা গেছে কর্মকর্তাদের। জেলার আসন চারটিতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ২৭ জন প্রার্থী।

৫৬২ কেন্দ্রের মধ্যে ২৫৮টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৭০টি। এসব গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নীলফামারী-১ ( ডোমার-ডিমলা) আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৪টি। এরমধ্যে ডোমার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৭০টি এবং ডিমলা উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে রয়েছে ৮৪টি। ওই দুই উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৭২টি এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২০টি। আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬১০ জন। এরমধ্যে নারী ২ লাখ ২৬ হাজার ৮২৬, পুরুষ ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৯, তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৮ জন।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনে কেন্দ্র সংখ্যা ১৩৪টি। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি। সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৭০ জন। 

এরমধ্যে নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ২৩৭, পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩১, তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৪ জন।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে কেন্দ্র সংখ্যা ১০৫টি। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি ও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ৭৭ জন। এরমধ্যে নারী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৯৯, পুরুষ ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৭৭, তৃতীয় লিঙ্গের ১জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৪ জন।

নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর) আসনে কেন্দ্র সংখ্যা ১৬৯টি। এরমধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৭৮টি, সৈয়দপুর উপজেলায় ৯১টি। এই আসনে মোট ভোটার স্যংখ্যা ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৯ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪২৭, পুরুষ ২ লাখ ২৪ হাজার ২১৭, তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন। আসনটিতে সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৯ জন।

এবারে জেলার আসন চারটিতে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

বুধবার বিকেলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার বলেন, ‘জেলার ৬ উপজেলার সংশ্লিষ্ঠ প্রিজাইডিং অফিসারদের মাঝে আজ বিকেলের মধ্যে ভোট গ্রহণ সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়ছে। তারা নিজ নিজ কেন্দ্রের উদ্দেশে রওয়ান হয়ে গেছেন’।

জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিৎ করে জানান, ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।