বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৭

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দিনাজপুরে ৮৪৪ ভোট কেন্দ্রে ৪৯৯৩টি সিসি ক্যামেরা 

দিনাজপুর, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৮৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৯৩টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুর-ই আলম সিদ্দিকী বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত ভোট  কেন্দ্রের প্রত্যেকটি ভোট কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে জেলার ৬টি আসনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণের জন্য সংস্কার কার্য সম্পন্ন হয়েছে। যেসব ভোট কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না, সেসব ভোট কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। 

দিনাজপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভোট কেন্দ্রের ভোট কক্ষগুলোতে  সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। গতকাল সোমবার রাত পর্যন্ত জেলার ১৩ টি উপজেলায় ৮৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৯৩টি ভোট কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করা হয়েছে। 

দিনাজপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহমেদ জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় অবস্থিত ৬টি সংসদীয় আসনের ১৩টি উপজেলায় ৮৪৪টি ভোট কেন্দ্রে প্রত্যেকটি ভোট কক্ষে উন্নত মানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করতে ট্রায়াল দেওয়া হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের পূর্বে সিসি ক্যামেরাগুলো কার্যকর রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিলহাজ উদ্দিন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেকটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসাররা তাদের কক্ষে বসেই ভোট কেন্দ্রের সর্বত্র মনিটরিং করতে পারবেন। এছাড়াও যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও ভোট দানে বিঘ্নকারী দুষ্কৃতিকারীদের তাৎক্ষণিক সনাক্ত করা সহজ হবে। ফলে সব ধরনের ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

এবারে জেলায় ৮৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ৮৮৭ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫ হাজার ২৪১ জন সহকারী প্রিজাইডিং এবং ১০ হাজার ৪৮৬ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ১৬ হাজার ৬১৪ জন জনবল ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। এসব জনবলের মধ্যে দিনাজপুর-১ আসনে (বীরগঞ্জ-কাহারোল) ২ হাজার ৫৮৭ জন, দিনাজপুর-২ আসনে (বিরল- বোচাগঞ্জ) ২ হাজার ৩১৩ জন, দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে ২ হাজার ৫৫৩ জন, দিনাজপুর-৪ আসনে (চিরিরবন্দর- খানসামা)২ হাজার ৬২৫ জন, দিনাজপুর-৫ আসনে (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) ২ হাজার ৯৫৭ জন এবং দিনাজপুর-৬ আসনে (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) ৩ হাজার ৫৯৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে।

সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রথম পর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও সরকারি সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে, ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সকল বিষয় ধারণা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। 

তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের দিনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ৬ টি আসনের ১৩ টি উপজেলায় ২৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রত্যেকটি উপজেলায় একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটানার সংবাদ পাওয়ামাত্র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবেন। নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমাধান করবেন বলে তিনি অবহিত করেন।  

দিনাজপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সম্মিলিতভাবে একটি শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন।