শিরোনাম

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশের ৬৪টি জেলায় ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক (এসটিও) মোতায়েন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)।
এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবেন।
আজ মঙ্গলবার ইইউ মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার শহর, নগর ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিনজুড়ে তাদের করা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।’
স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের এই নিয়োগ মূলত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের কাজেরই ধারাবাহিকতা। যারা ইতোমধ্যে নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশ, প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিশনটির কার্যক্রম আরও জোরদার করছে। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও এই মিশনে যোগ দিচ্ছেন।
মিশনের পূর্ণ সক্ষমতা সম্পর্কে ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘দেশজুড়ে আমাদের ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবদান রাখছি। এই বৃহৎ এবং নিবেদিত মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।’
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্র এবং সহযোগী দেশগুলো থেকে ২০০ জনেরও বেশি পর্যবেক্ষক এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিবৃতির মাধ্যমে মিশনটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। উভয় প্রতিবেদনই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ইইউ ইওএম (EU EOM) একটি আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর নিরপেক্ষতা ও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা দেয়।