বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৬

নির্বাচনি আইন ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিলেন খুলনার ডিআইজি

বাগেরহাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডি আই জি মো. রেজাউল হক । ছবি: বাসস

বাগেরহাট, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক পিপিএম। 

তিনি বলেন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো অপরাধে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা সহ্য করবে না।

গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় বাগেরহাট জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশের  সম্মেলন কক্ষে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে খুলনা রেঞ্জের ডি আই জি মো. রেজাউল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত যে-কোনো তথ্য বিনিময়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম বা সিভিল পোশাকে অনৈতিক আচরণ করলে কিংবা কোনো সাধারণ ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে। নির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ার করেন।

ডিআইজি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা, নিরাপদে ব্যালট পেপার ও নির্বাচন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব, সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি জানান, বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নৌবাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।তিনি জানান, বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে  দুই হাজার পুলিশ সদস্যও সাত হাজার আনসার সদস্য  মোতায়েন থাকবে। 

এছাড়া নৌবাহিনী,র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৮৬ এবং গুরুত্বপূর্ণ ২২৩ ও সাধারণ ১৩৮ টি সহ  মোট ৫৪৭ টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল পার্টির সংখ্যা মাইক্রো ৭৫, মাহেন্দ্র ৬৩ ও হোন্ডা ১২ টি এবং স্ট্রাইকিং পার্টির সংখ্যা ৯ টি, এসময় মাঠে থাকবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯ জন,নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২৬ জন এবং ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারী কমিটি যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ৪ জন নিয়োজিত থাকবেন।

ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস বিকাশের মাধ্যমে এক হাজার টাকার বেশি লেনদেন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যাতে অবৈধ অর্থ লেনদেন রোধ করা যায়।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিদুর রহমান ও মো. আবু রাসেল, সহকারী পুলিশ সুপার শামীম হাসান, বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুম, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম লিটন এবং বাসস বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি আজাদ রুহুল আমিন।