বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৭
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৫

ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে : আনসার মহাপরিচালক

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।  ছবি: বাসস

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোটকেন্দ্রে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।  

মহাপরিচালক বলেন, সন্ত্রাসীদের চাপ থাকলে ভয় পাওয়া যাবে না। সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশৃঙ্খলা হলে কোনোভাবেই ভোটকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে পাহাড়ের মতো অটল থাকতে হবে। 

তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে বাহিনীকে একটি যুগোপযোগী, স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। যার লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, অন্যদিকে জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা। 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) এ সমাবেশের আয়োজন করে।  

আনসার মহাপরিচালক বলেন, ঢাকা মহানগরের ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় ২৭ হাজার ৭০৩ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে প্রশিক্ষিত সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সারা দেশে আনসার-ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২৭ জন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। 

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যেকোনো ধরনের উসকানি প্রতিহত করতে হবে। দেশের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে।

যেকোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা এবং নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হলে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে। কোনো জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ না পেলে এই সুরক্ষা অ্যাপ ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই কাজ করবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এখন আগের নির্বাচনের মতো নয়, আপনারা দাঁড়িয়ে থাকবেন অন্যরা ব্যালটে সিল মারবে তা হতে দেওয়া যাবে না। আপনাদেরকে কেউ অর্থের বিনিময়ে কেনার চেষ্টা করলে প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ এটা দেশ ও জাতির আমানত। আমানতের খেয়ানত করলে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাও তাকে ছাড় দেবে না। আগামীর নতুন বাংলাদেশের এই আনসার ভিডিপির এখান থেকেই নতুন যাত্রা শুরু হবে। 
তিনি বলেন, আজকের মতো এ রকম মহামিলন আগে কখনো হয়নি। আগে আনসারের কাজ ছিল জেলা উপজেলায় ভোটের একদিন আগে ব্যালট বাক্স মাথায় করে নিয়ে যাওয়া। 

সমাবেশে মহাপরিচালক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপস’, সমন্বিত সিকিউরিটি রেসপন্স সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সদস্য বাছাই, সার্টিফিকেশন ও ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো আধুনিক ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থার সফল প্রয়োগের কথা তুলে ধরেন। 

বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনারা কেবল একটি বাহিনীর সদস্য নন—আপনারা জাতীয় পতাকার মর্যাদার রক্ষক এবং সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি। আপনারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নন, দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই আপনাদের একমাত্র পরিচয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং সরাসরি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল মনিটরিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিভ্রান্তি রুখতে বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও সক্ষম। ভোট কেন্দ্রে নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বা শৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এছাড়াও তিনি নির্বাচনী নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম বা দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা বহির্ভূত কোনো ছবি বা ভিডিও প্রচার করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মনে করে, প্রতিটি সদস্যের সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ওপরই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রস্তুতি শুধু একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে না, বরং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপভোগ করতে পারবে সে লক্ষ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে প্রত্যাশা করেন আনসার মহাপরিচালক।