বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৩
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০০

দেশ গঠনে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ : তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার দুপুরে ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশ গঠনে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি বলেছেন, 'বহু রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছি। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। দেশ পুনর্গঠনে বিএনপি সচেষ্ট থাকবে। বিএনপি জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। '

সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,  ‘আসুন বাংলাদেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিএনপির দেয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে আপনারা দলটিকে সুযোগ দিন। ইনশাল্লাহ বিএনপি আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।’

তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার একটি কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটি জায়গায় একটি কথাই বলি, দেশ কেউ বাইরে থেকে এসে গঠন করে দিয়ে যাবে না, দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে। নিজের ঘর যেরকম নিজেকে সামাল দিয়ে রাখতে হয়, এই দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে।  আমি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসাবে আপনাদের সকলের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাই।'

আজ সোমবার দুপুর ১২ টায় ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার দল ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভোটে এবং এই দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হলে আমরা সমগ্র দেশের শহর, এই ঢাকা শহরকে একটি নিরাপদ শহরে রূপান্তরিত করতে চাই। যেই শহরে মা বোনেরা নিরাপদে নিশ্চিন্তে যে কোন সময়ে হাঁটতে পারবেন, যেই শহরের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করতে পারবেন। আমরা ঢাকাকে একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেই শহরে শহরের মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবেন।'

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপি কী করতে চায় তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের পরিকল্পনা আছে, দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে।  আমরা দেশের নারীদের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কিভাবে দেশের নারীদের ক্ষমতায়ন আরো বাড়ানো যায় সে বিষয়ে। এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে নারীদের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি।

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন,  'নারীদের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।'

কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় কৃষকদের জন্য সুদ মওকুফ ও কৃষি জমির খাজনা মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।'

দেশের তরুণ যুবক সমাজের সদস্য যারা ছেলে হোক মেয়ে হোক কিভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, আইসিটি সহ ভোকেশনাল বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গঠনের মাধ্যমে করব। দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে সেই পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।

প্রবাসী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, 'বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেককে পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রবাসী কর্মীদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা জমিজমা বিক্রি না করেই বিদেশে যেতে পারেন।'

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, 'দেশের মানুষের ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। গ্রামে ও ওয়ার্ডে বসেই বিশেষ করে মা, বোন ও শিশুরা যেন প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুত সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির, যাতে প্রাথমিকভাবে ঘরে বসেই সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা পেতে পারে।'

তারেক রহমান বলেন, 'সমাজের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব ধর্মীয় ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।'

তিনি বলেন,  'এই সকল পরিবর্তন যদি করতে হয়, এই সকল পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়। আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আপনাদের সামনে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। কিন্তু আপনাদের কী পরিকল্পনা ১২ তারিখে? বলুন।

জনসভায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘ধানের শীষ, ধানের শীষ। 'তারেক রহমানও স্লোগান ধরেন - ' করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ ইনশাল্লাহ ১২তারিখে আপনারা আপনাদের পরিকল্পনায় সফল হলে বিএনপি পর্যায়ক্রমিকভাবে যে সকল পরিকল্পনা দেশের মানুষের জন্য গ্রহণ করেছে এবং এই এলাকার মানুষের জন্য যে সকল প্রতিশ্রুতি আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি পর্যায়ক্রমে আমরা সেসব বাস্তবায়ন করব।'

ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই এলাকায় বায়ুদূষণ ও যানজট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই মিলে কাজ করলে এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব। বিএনপি সকল সময় বিশ্বাস করে যে, জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা আপনাদের কাছে এমন কোন প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না যা মানুষের সাধ্যের বা ক্ষমতার বাইরে।

তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রার্থী, ধানের শীষের প্রার্থী, এই এলাকা থেকে, ঢাকা-১৭ থেকে প্রার্থী হয়েছি। আমি এই এলাকারই সন্তান, আমি ছোটবেলা থেকে, আমার শিশু বয়স থেকে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার সন্তানেরা এই এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছে। আমার এবং আমার ভাইয়ের, আমাদের বিয়ের শাদী এই এলাকাতেই হয়েছে।'

‘কাজেই আমি এই এলাকারই সন্তান এবং এই এলাকার সন্তান হিসাবে এই এলাকার মুরুব্বি, এলাকার মায়েদের কাছে, এই এলাকার ভাইদের কাছে, এলাকার বোনদের কাছে আজ আমি ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি। আজ আমি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য আমার এলাকাবাসী ভাই ুবোন, মুরুব্বীদেরকে আমি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে আগামী ১২  তারিখের নির্বাচনে আপনারা এলাকায় এই এলাকায়  ধানের শীষকে নির্বাচিত করেন।'

এরপর তিনি ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনী এলাকা কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে পীর জঙ্গি মাজার রোডে দুপুর ১টায়, ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ হাবিবের আসনে বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে দুপুর ২টায়, ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবীর নির্বাচনী এলাকায় যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে দুপুর ৩টায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন।

এছাড়াও ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের নির্বাচনী এলাকায় জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে বিকাল ৪টায়, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেন নির্বাচনী এলাকায় ধূপখোলা মাঠে ৫টায় এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের নির্বাচনী এলাকা লালবাগ বালুর মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় জনসভায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।