বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৪

রাজশাহী-৩ আসনে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ, লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে

\ ওমর ফারুক \

রাজশাহী, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ (বাসস): রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজশাহী মহানগর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে ভোটের মাঠে মোট পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও বাস্তব লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মধ্যে। 

এ আসনে প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী এড. শফিকুল হক মিলন, জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুর রহমান, আমজনতার দলের সাইদ পারভেজ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদা হাবিবা। 

সব প্রার্থী প্রচার প্রচারণা করলেও মাঠপর্যায়ের প্রচারণা, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে শেষ পর্যন্ত এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই নির্ধারিত হবে আসনের ভাগ্য। রাজশাহী মহানগর লাগোয়া গুরুত্বপূর্ণ আসন রাজশাহী-৩ আসনটি মহানগরের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নগরকেন্দ্রিক ভোটার, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের প্রভাব তুলনামূলক বেশি। ফলে এই আসনে ভোটাররা সাধারণত প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এ কারণেই প্রতিটি দল এই আসন ঘিরে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি মাঠে নেমে ধারাবাহিক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও নেতাকর্মীদের নিয়ে সমন্বিত প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, নগরঘেঁষা এই আসনে বিএনপির একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা। এসব কারণে বিএনপি শিবিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সংগঠিত অবস্থান ও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকায় তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে। শিক্ষকতা পেশার কারণে তিনি ভোটারদের একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রচারণা এই আসনে তাদের বড় ভরসা। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের দিন যদি সংগঠিতভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে জামায়াত প্রার্থী শক্ত অবস্থানে যেতে পারেন।

সূত্র মতে, ভোটের সমীকরণ মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে। অন্য প্রার্থীরা ফলাফলে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শেষ মুহূর্তের ভোটার উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফল। 

এদিকে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা ও এলাকার জন্য কাজ করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে।

একাধিক ভোটার জানান, এবারের নির্বাচনে তারা পরিচিত ও কাছের মানুষকে গুরুত্ব দিতে চান। সব মিলিয়ে রাজশাহী-৩ আসনের নির্বাচন ক্রমেই দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের মধ্যকার লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে ভোটারদের রায় যাবে—তা নির্ধারিত হবে ভোটের দিন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৬১ জন। হিজড়া ভোটার ৬ জন। নির্বিঘ্নে ভোট করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।