শিরোনাম

রাজশাহী, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থীর মধ্যে মূলত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর তাজুল ইসলাম খান ও জাতীয় পার্টি’র ফজলুল হক।
১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৪ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এখানে দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজ, সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় ইস্যুগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই দিক থেকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় সামাজিক ও চিকিৎসাসেবা মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় ভোটারদের মাঝে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ায় তিনিও উপজেলা জুড়ে সুপরিচিত এবং তার একটি শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই এই দুই প্রার্থী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন।
বিএনপি জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলনের দুই প্রার্থীও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে কিছু এলাকায় বিএনপি’র ঐতিহ্যগত প্রভাব থাকলেও কয়েকটি ইউনিয়নে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান বেশ মজবুত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাহেরপুর ও ভবানিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোটার এবং নারী ভোটাররা এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনেকরছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানই এবার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ভোটারই জানিয়েছেন, তারা দলের চেয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে প্রাধান্য দিতে চান।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি এবং শেষ সময়ের প্রচারণাই নির্ধারণ করে দেবে কে বিজয়ী হবেন। সব মিলিয়ে আসনটিতে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মোট ১২২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছান বাসস’কে জানান, সুষ্ঠুভাবে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।