বাসস
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৬

বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করতে দেবো না : ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করতে দেবো না। কারণ আমরা সব ধরনের বিভক্তিকে ঘৃণা করি। তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে, ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ শনিবার হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির বলেন, চারটি ধর্মের মানুষ এই বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে- মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। এটি একটি ফুলের বাগানের মতো। ধর্মের ভিত্তিতে কারও ওপর বাড়াবাড়ি ইসলাম পছন্দ করে না। এটা হারাম। কোনো বাড়াবাড়ি করার সুযোগ নেই।

এখনও মায়েরা ঘরের মধ্যে নিরাপদ নয়-উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ঘর থেকে বের হলে এবং কর্মস্থলেও নিরাপদ নয়। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়বে। মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। সন্তানরা সুশিক্ষা পাবে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তারা তাদের স্বাস্থ্যের পরিচর্যার সমস্ত অধিকার ভোগ করবে। সমাজে নিরাপত্তা থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। আসলে কিছুই হলো না। এর জন্য কারা দায়ী?

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, কেউ একেবারে ভালো কিছু করেন নাই- এ কথা আমি বলছি না। কিন্তু এ দেশ সবুজ ছায়ায় ঘেরা, উর্বর একটি দেশ। এ দেশে অনেক সম্পদ আছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না কেন? শুধু অসৎ নেতৃত্বের কারণে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত একটা বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ময়দানে নেমেছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে আমরা চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে, ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে আইনের মাধ্যমে শাস্তি হবে, রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও যদি সেই অপরাধ করে তাঁদের সে আইনেই বিচার হবে। আইন কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। ওই বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই না, যে বাংলাদেশে আমার মা-বোন-কন্যা কারও কোনো ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই।

তিনি শিক্ষার ব্যাপারে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু কাগজের সার্টিফিকেট তৈরি করবে না। দক্ষ জনবল তৈরির কারখানা হবে। আমাদের জনবল নিয়ে আমরা গ্রামকেও শিল্প বানানোর পরিকল্পনা আছে। আমরা কৃষিভিত্তিক কলকারখানাও চালু করবো। 

তিনি শ্রমিকদের প্রসঙ্গে বলেন, চা-বাগানের আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যারা আছে, যারা অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপন করে এবং তাদের সন্তানেরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সেবা থেকে বঞ্চিত। আমরা চা-বাগানেও আধুনিকতা কায়েম করবো, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করবো, সেই মানুষগুলোরও জীবনমানের পরিবর্তন করবো।

তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিয়ে বলেন, দু’টো ভোট। প্রথমে গণভোট, গণভোটে মহান আল্লাহ তায়ালা যেন ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী করেন। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে পুরোনো, পচা রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয় হলো- বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে।

তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে যে কোনো ধর্মের মানুষ তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সেই ধরনের উপযুক্ত কাজ পাবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে আর বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, ১১ দলের যেখানে যে প্রতীক সেটাই ন্যায়বিচারের প্রতীক। এই হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসন। একটি আসনে দাঁড়িপাল্লা, দু’টি আসনে দেয়ালঘড়ি, আর একটি আসনে রিকশা। আপনাদের কাছে চারটি আসনের সহযোগিতা চাইলাম। চারটি আসন ইনসাফ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের হাতে তুলে দিন।