বাসস
  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৪৩

জীবন দেবো কিন্তু মায়েদের সম্মান নিয়ে কাউকে টানাটানি করতে দেব না : ডা. শফিকুর রহমান

ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে গাজীপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

গাজীপুর, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা মায়েদের সম্মান কারো কাছে বন্ধক দেবো না। জীবন দেবো কিন্তু মায়েদের সম্মান নিয়ে কাউকে টানাটানি করতে দেবনা।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানেরা, মায়েরা, শ্রমিকেরা, মজুরেরা, কৃষকেরা ও ছাত্র-যুবকেরা জুলাই আন্দোলন করেছে । তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করেছে ইনসাফের ভিত্তিতে কর্মসংস্থান পাওয়ার জন্য। 

তিনি আজ মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে গাজীপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সেক্রেটারি আসম ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যয়নুল আবেদীন, ঢাকা উত্তর জামায়াতের অঞ্চল টীম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নাযেবে আমির মো. হোসেন আলী এবং গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি আনিছুর রহমান বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। 

জামায়াত আমির গাজীপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহ আলম বখশি (দাঁড়িপাল্লা), গাজীপুর-২ এ এনসিপির এ্যাডভোকেট আলী নাসের খান (শাপলা কলি), গাজীপুর-৩ এ খেলাফত মজলিসের মাওলানা এহসানুল হক (রিকসা), গাজীপুর-৪ এ জামায়াতের  ড. সালাহউদ্দিন আইউবী (দাঁড়িপাল্লা), গাজীপুর-৫ এ জামায়াতের মো. খায়রুল হাসান (দাড়িপাল্লা) এবং নরসিংদী-২এ জোটের প্রার্থী এনসিপির সারোয়ার তুষার (শাপলা কলি) কে নিজ নিজ প্রতীক হাতে তুলে দিয়ে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুরা গাজীপুরই একটি শিল্প এলাকা। গাজীপুরে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও তাদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আছে। আমরা যদি ইনসাফের বাংলাদেশ পাই তাহলে শিল্প এলাকাকে শিল্পের মতই সাজানো হবে ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে ভূমিষ্ঠ ও মায়ের বুকের দুধ পানের সময়সহ লালন পালনের জন্য দুই থেকে আড়াই বছর নারীদের কর্মঘন্টা ৫ ঘন্টা করা হবে। বাকি ৩ ঘন্টা মায়েরা তার সন্তানকে সময় দেবে। প্রথমে সরকারি পরে বেসরকারি পর্যায়ে তা কার্যকর করা হবে ইনশাআল্লাহ । তাদের সেই ৩ ঘন্টার বেতন দিবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। 

তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান দেয়া হয়না। বিশেষ করে মায়েদের সম্মান দেয়াই হয়না। তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৈষম্য রয়েছে। পুরুষদের একরকম মহিলাদের আরেক রকম বেতন। কাজ কিন্তু সমান। এই সমস্ত বৈষম্য আমরা দূর করবো। এইদেশে কোন বৈষম্যই আমরা রাখবো না। 

গাজীপুর একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, সুপেয় পানি সরবরাহ, গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুত ব্যবস্থাসহ সবকিছুতে সমস্যা আছে। অথচ জিডিপিতে গাজীপুরের বিশাল অবদান আছে। জিডিপিতে কৃষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের অধিকারের বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে। যার যেটুকু অবদান আছে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, কিছু মানুষ মায়েদের গায়ে হাত তুলে। তিনি তাদের হুঁশিয়ার করে বলেন, মায়েদের সন্তানেরা তোমাদেরকে ক্ষমা করবেনা। দয়া করে তোমার মাকে সম্মান করতে শেখো। তুমি যদি তোমার মাকে সম্মান করো তাহলে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ তোমাকে সম্মান করবে।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ১২ তারিখ ইনসাফের পক্ষে রায় দিন। আমরা যদি আগামীতে দেশ সেবার সুযোগ পাই তাহলে গাজীপুরের প্রতি বেইনসাফি করা হবে না। যার যার পাওনা ইনসাফের ভিত্তিতে বুঝিয়ে দেয়া হবে। দেশের টাকা যারা বিদেশে পাচার করেছে তাদের সেই টাকা ফেরত আনা হবে। দুর্নীতিবাজদের টাকা তাদের পেটের ভেতর থেকে টেনে বের করে আনা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। আমি শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাইনা। আঠারো কোটি মানুষের বিজয় চাই । উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ভোটের দিন কোন ভোট ডাকাত আসলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।