শিরোনাম

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের ওপর অব্যাহত সহিংসতা, হামলা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটাারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান ও মারজিয়া বেগম এবং মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সিইসির সাথে সাক্ষাৎ শেষে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা ভোটের জন্য যখন পাড়ায়-মহল্লায় এবং মানুষের বাড়ি ঘরে যাচ্ছে তখন একদল লোক তাদের উপর বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার নির্যাতন করছে। সাইবার বুলিং হচ্ছে, শারীরিক নির্যাতন করছে, তাদের হিজাব এবং নিকাপ খুলে ফেলছে। এ ব্যাপারে সরকার ও ইসি পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, আমরা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এটি জাতিরও প্রত্যাশা। জাতীয় সংসদ ও গণভোট দুটো নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
স্মারকলিপিতে ইসি’র কাছে নয় দফা দাবি ও সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- নির্বাচন প্রচারণাকালে নারী কর্মী, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, হয়রানি ও হুমকিকে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান কার্যকর করতে হবে।
নির্বাচনকালীন নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিতে হবে। প্রত্যেক এলাকায় নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের জন্য বিশেষ পুলিশ টহল, মোবাইল টিম ও নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি পৃথক নারী-সংবেদনশীল হেল্পলাইন, অভিযোগ ডেস্ক ও অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম চালু করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো প্রার্থীর সমর্থক বা কর্মীর দ্বারা নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দায়ী করে সতর্কতা, জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিলের বিধান কার্যকর করতে হবে।