বাসস
  ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৬

এবারের নির্বাচনে ভুল করলে দেশ অনেক দূর পিছিয়ে যাবে : আবদুস সালাম

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে দলটির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ভুল করলে দেশ অনেক দূর পিছিয়ে যাবে। স্বাধীনতার অর্জন হুমকিতে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো বাংলাদেশ এখনো একটি দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন না হলে আমরা এখনো পরাধীন থাকতাম। ৭৫-এর পরে যদি ভুল হতো, জিয়াউর রহমান যদি দেশের হাল না ধরতেন, তাহলে স্বাধীনতার সমাপ্তি ঘটত। এবারও যদি আমরা ভুল করি, তাহলে দেশ অনেক পিছিয়ে যাবে।

আজ শনিবার রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের ভাসানটেক ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন সেনাদলের উদ্যোগে ভাসানটেক বিএনপি কার্যালয়ে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, জনগণের ভোটে তারেক রহমান নির্বাচিত হলে দেশে বেকারত্ব থাকবে না। দারিদ্র দূর হবে এবং মানুষ না খেয়ে থাকবে না। তাই আমাদের সবদিক বিবেচনা করে ভোট দিতে হবে। যদি এবার আপনারা সঠিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে ভুল করেন, দেশ অনেক দূর পিছিয়ে যাবে।’
 
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ দেশটাকে করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা ফের এই দেশটাকে করদ রাজ্য বানাতে দিতে পারি না। মোটেই না। এখন আপনারা ঠিক করবেন— দেশ পরাধীন করবেন নাকি স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক হবে এ দেশ কারা পরিচালনা করবে।
 
আবদুস সালাম বলেন, একটি গোষ্ঠী জামায়াতকে বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বী বানানোর চেষ্টা করছে। অথচ, বিগত দিনে জামায়াতের অবস্থান বিএনপির ধারে-কাছেও ছিল না। তারা কোনোদিন ঢাকায় একটি আসনেও জয়লাভ করেনি। বিএনপির সঙ্গে যতদিন যুক্ত ছিল, ততদিন তারা ২০টির কাছাকাছি আসন পেয়েছে। যখন বিএনপি থেকে সরে গিয়ে নির্বাচন করেছে, তখন মাত্র দু’টি আসন পেয়েছে। এমন দলের সাথে বিএনপির কখনোই তুলনা চলে না। 

তিনি আরো বলেন, বিগত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা কত রকম নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়ে জীবন শেষ করে দিয়েছে; তবুও তারা কখনো আপস করেনি। যেমন আপস করেননি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমাদের নেতা তারেক রহমানও আপস করবেন না।
 
তিনি বলেন, ডাকসুতে যারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা কিছুদিন আগেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। অথচ ৫ আগস্টের পরে বলছে— তারা ছাত্রশিবিরের কর্মী। এবার যদি বিএনপি নির্বাচিত হয়, তাহলে এই ছেলেরাই এসে তারেক রহমানের কাছে বলবে— আমরা ভুল করেছি। আমাদের মাফ করে দিন। মনে রাখবেন, এরা নিজেদের রক্ষার জন্য সবকিছুই করতে পারে। এদের ব্যাপারে সবাইতে সতর্ক থাকতে হবে।
 
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্যু করে ক্ষমতায় আসেননি উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, সিপাহী-জনতা একত্রিত হয়ে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কারণ, তার প্রতি আগে থেকেই সৈনিকদের আস্থা ছিল। সেই আস্থা এখনো আছে। সেই আস্থার ওপর ভর করেই তাদের প্রিয় সন্তান তারেক রহমানকে দেশ চালানোর দায়িত্ব তুলে দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
 
দেশকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমানের মতো খাঁটি ও দূরদর্শী নেতা দরকার উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো নেতা হতে পারেন সময়ের একমাত্র কাণ্ডারি তারেক রহমান। জনগণ তার পক্ষ নিয়েছে। তারেক রহমান যেদিন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, সেদিন ১ কোটিরও বেশি লোক ঢাকার রাস্তায় ছিল। তাদের সবাই কি বিএনপি করে? মোটেও না। তাদের বেশিরভাগ সাধারণ জনগণ। এরপর এখন তিনি যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ করতে যাচ্ছেন, সেখানেও মানুষের উপচেপড়া উচ্ছ্বাস।

প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি, তারা আসলে দেশকে ভালোবাসে না। তাদের সঙ্গে থেকে বিগত দিনে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য বিএনপিকে অনেক মূল্যও দিতে হয়েছে। রাজাকার তকমা সহ্য করতে হয়েছে। এরপরেও আমরা জানি না কেন ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।’ 
 
উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চাই। আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন। উঠান বৈঠক করবেন। অফিসে বসে বক্তব্য রাখার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়াটা এই মুহূর্তে বেশি দরকার। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে— তাদের একেকটি ভোটের অনেক মূল্যবান। তাদেরকে ধানের শীষে ভোট দিতে উৎসাহী করুন। 

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কখনো রাজাকারদের সমর্থন করতে পারে না। কারণ, সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। যারা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বড় হয়, তারা কি রাজাকারদের পক্ষ নিতে পারে? উপস্থিত সেনা সদস্যরা উত্তরে বলেন, না পারে না।
 
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিগত দিনে আপনারা অনেক কষ্ট করেছেন, অনেক কিছু হারিয়েছেন। যা হারিয়েছেন, সবই পেয়ে যাবেন। কেউ ব্যবসা হারিয়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। বিএনপি যথাসময়ে এসব পাওনা বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু, কখনো সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। সাধারণ মানুষ কষ্ট পায় এমন কোনো কাজ বা কথাও বলা যাবে না।
 
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ঢাকা-১৭ এর যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার।

ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ভোটের দিন সকাল সকাল আপনারা কেন্দ্রে চলে যাবেন। যখন এলাকায় ভোট বাক্স পৌঁছাবে, তখনই ভোট বাক্সের ওপর নজর রাখবেন। কঠিন পাহারা দেবেন যাতে কেউ জোচ্চুরি করতে না পারে। ভোর হওয়ার আগেই পুনরায় ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। ভোট গণনার পর ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র আগলে রাখবেন। মনে রাখবেন— আপনার হিসেব আপনাকেই বুঝে নিতে হবে।
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল জগলুল আহসান, ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদের মাহমুদ, সদস্য সচিব রেজানুর সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন, শাহরিয়ার লিটন, ৯৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন। 

সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারেন্ট অফিসার মতিউর রহমান, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আসাদুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. আব্দুল বাতেন, সার্জেন্ট আব্দুল হক, কর্পোরাল জমশেদ, ওয়ারেন্ট অফিসার রফিকুল ইসলাম, ওয়ারেন্ট অফিসার রওশন আলী, সৈনিক দুলাল হোসেন, যুবদল নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম মিরাজ ও সার্জেন্ট ইমামুল হক প্রমুখ। 

সভা শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে গণসংযোগে বেরিয়ে যান।