বাসস
  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২২
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৪

বগুড়ায় আবেগে আপ্লুত তারেক রহমান 

দীর্ঘ ১৯ বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ জেলা বগুড়ায় পৌঁছেছেন। রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য প্রদান শেষে রাত সাড়ে ১২টায় এসে পৌঁছান তার নিজ নির্বাচনী এলাকা বগুড়া সদর আসন-৬ এ। ছবি: বাসস

\ আজম সারোয়ার চৌধুরী \

বগুড়া, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ ১৯ বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ জেলা বগুড়ায় পৌঁছেছেন। রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য প্রদান শেষে রাত সাড়ে ১২টায় এসে পৌঁছান তার নিজ নির্বাচনী এলাকা বগুড়া সদর আসন-৬ এ।

ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে দুই থেকে তিন দিন আগে থেকেই জনসভার আয়োজন করা হয় জেলা বিএনপির উদ্যোগে।

তারেক রহমান এর আগেও বেশ কয়েকবার বগুড়ায় এসেছেন। তবে এবারে তার আগমন ছিল ভিন্ন রূপে। তিনি এবার এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তিনি নিজেই নির্বাচন করছেন। এর আগে কখনো তারেক রহমান কোনো নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেননি।

সদর আসনটিকে এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আবিদুর সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ দিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ জনসভাস্থলে পৌঁছানোর কথা থাকলেও রাত ৮টায় তিনি বগুড়ায় প্রবেশ করলে লাখো জনতার জনসমুদ্র ঠেলে সভাস্থলে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় চার ঘণ্টারও বেশি। রাত ১২টায় তখনও লোকে লোকারণ্য ছিল সভাস্থলসহ আশপাশের পুরো এলাকা। কোথায় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

সভা মঞ্চে উঠেই লাখো জনতার উদ্দেশ্য হাত নেড়ে তারেক রহমান বলেছেন, ‘কি বলবো, ভাষা হারিয়ে ফেলেছি’।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্য তিনি বলেছেন, ‘আমি আজ আপনাদেরকে কিছু দিতে আসিনি, নিতে এসেছি। আমি শুধু বগুড়ার নয় সারা বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চাই’। 

তিনি আল্লাহ পাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেছেন, ‘আজ ১৯ বছর পর আপনাদের কাছে আসতে পেরেছি। নিজের ঘরে এসে কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ঘরের মানুষের কাছে তো কিছু বলার নেই। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে বলবো, নাকি প্রার্থী হিসেবে বলবো।’ এ সময়  উপস্থিত লাখো জনতা সমস্বরে বলেন এলাকার সন্তান, এলাকার ভাই হিসেবে বলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বগুড়ায় বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেছেন, ‘সরকারের আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব হয়েছে তা করেছি। বগুড়া ছিল আমার কাছে মডেল জেলার মতো। আমি চিন্তা করেছিলাম বাকি ৬৩টি জেলা কীভাবে সাজাবো। শুধু বগুড়াকে নিয়ে কাজ করলে কী হবে। সারা বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবতে হবে। সারাদেশের উন্নয়ন করতে হবে।’

তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছর মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। শুধু বগুড়া নয়, গত ১৫ বছর সারাদেশ পিছিয়ে পড়েছে’।

আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। 

বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া -৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, বগুড়া -২ আসনের মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া -৭ আসনের প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান হারেজ ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জান তালুকদার লালু বক্তব্য দেন। এ সময় বগুড়ার সাতটি আসনের দলের প্রার্থীদের তিনি পরিচয় করিয়ে দেন।