বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৯

ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু

ফেনী, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দলীয় নেতাদের নিয়ে তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখছেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, তার বাবা প্রয়াত হাজী সফি উল্যাহ রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান এবং পরে দাগনভূঞার প্রথম দুই মেয়াদের উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসায় অভিভূত।

তিনি বলেন, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় বিনা ভোটের এমপি, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বিপুল অর্থসম্পদ গড়ে তুলেছেন। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আকবর হোসেন জানান, ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনে আবদুল আউয়াল মিন্টু দাগনভূঞার ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন থেকে গণসংযোগ ও পথসভা শুরু করেন। প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকার অন্তত দুটি ইউনিয়নে তিনি গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ও পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে তিনি গণসংযোগ করেন। এছাড়া তার সহধর্মিণী উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)-এর চেয়ারপারসন নাসরিন আউয়াল মিন্টু, বড় ছেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং ছোট ছেলে তাজওয়ার আউয়াল পৃথকভাবে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে গণসংযোগ সম্পন্ন হয়েছে। অপর তিনটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কর্মসূচি চূড়ান্ত রয়েছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সোনাগাজী সরকারি সাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শেষ হবে।

তিনি বলেন, প্রচারণায় ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। আমরা আশা করছি দলীয় জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন।

প্রসঙ্গত: ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৪ জন ভোটার রয়েছেন— পুরুষ ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৭১ জন, নারী ১ লাখ ১৯ হাজার ৪১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। নতুন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন ১০ হাজার ৯৭০ জন।

সোনাগাজী উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৩ জন— পুরুষ ১ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯ জন, নারী ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৪২ জন।

এই আসনের দাগনভূঞা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭৮টি এবং ভোটকক্ষ ৪৫৭টি। সোনাগাজী উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৮৩টি এবং ভোটকক্ষ ৪৬০টি। এখানে আবদুল আউয়াল মিন্টু ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দীন মানিকসহ (দাঁড়িপাল্লা) মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।