বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১১

ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি, সবাই সজাগ থাকুন : তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার রাতে নওগাঁ জেলার এটিম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি, সবাই সজাগ থাকুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি দলের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। একটা পক্ষ তো পালিয়ে গিয়েছে দেশ থেকে। কিন্তু আরেকটা পক্ষ আছে, এই দুই পক্ষ আবার আগে থেকে একসাথেই ছিল। এই দুই পক্ষ বিভিন্ন সময় একসঙ্গেই ছিল, তলে তলে একসাথেই ছিল।’

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরেও আপনারা মাঠে ঘাটে কোথাও ওদেরকে পেয়েছেন? আন্দোলন-সংগ্রামে তাদেরকে পেয়েছেন? কোথাও ছিল না। ওই ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের সাথেই ছিল এরা। এখন এরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছে বিভিন্ন রকম। এখন আপনাদেরকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের ভোট এদিক-ওদিক না করে।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে নওগাঁ জেলার এটিম মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যালেট বক্স পাহারা দিতে হবে। ২০০৮  সালে কী হয়েছিল মনে আছে? ২০০৮ সালে কিন্তু ওই যে ম্যাজিক, এই আছে, এই নাই। একবার খালি বক্স দেখায়, আবার ভরা বক্স দেখাইতেছে ... মনে আছে তো। কাজেই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে আপনাদেরকে।

নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ভোটারদের সকালে অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র খুললে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া আরম্ভ করবেন।’

তিনি বলেন, খেয়াল রাখবেন যারা ষড়যন্ত্র করছে, এরা আবার ২০০৮ সালের মতো আরেকটি ষড়যন্ত্র করছে। ওই যে—তথাকথিত আমি-ডামি নির্বাচন, নিশি রাতের নির্বাচন—তখন আমরা দেখেছি, লাইন দিয়ে থাকে কিন্তু লাইন আগায় না, অথচ ভেতরে সিল মারছে। এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছর আপনাদের এলাকার কোনো উন্নতি হয়নি। গত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।  গত ১৬ বছর বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। হ্যাঁ, ঢাকা শহরসহ কয়েকটি শহরে কিছু কিছু বড় বড় ফ্লাইওভার হয়েছে,  কিছু কিছু বড় বড় দালান হয়েছে। মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। কিন্তু মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, আমরা চাই জেলা শহরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, আমরা চাই উপজেলা শহরের উপজেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, আমরা চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে। আমরা চাই আমাদের নারীদের, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে, আমাদের বেকার যুবক-তরুণ যারা আছে, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আমরা চাই দেশের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে, যেখানে মানুষ নিরাপদে হাঁটাচলা করবে, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, রাতে নিরাপদে ঘরে যাতে ঘুমাতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই ইনশাআল্লাহ। সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে হলে আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণ যদি পাশে থাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না।’

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সব সময় একটি স্লোগান দেয়। সেই স্লোগান হলো—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। কারণ, বিএনপি জানে বিএনপির সাথে জনগণ আছে। বিএনপি জানে জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস, সকল শক্তির উৎস। গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির সাথে জনগণ ছিল বলেই বিএনপি এত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যে আজও টিকে আছে এবং বিএনপি যে টিকে আছে তার প্রমাণ হচ্ছে এই যে, হাজারো লক্ষ মানুষ আজকের এই মিটিংয়ে উপস্থিত হয়েছে।

নওগাঁয় রেললাইন স্থাপন, কৃষি পণ্যের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি পুরণ করতে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

দুপুরে রাজশাহীতে মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করে সড়কপথে সন্ধ্যায় ৬টা ১০ মিনিটে নওগাঁ আসেন তারেক রহমান। তিনি মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী করতালি দিয়ে তাদের নেতাকে স্বাগত জানায়।

নওগাঁ জেলা বিএনপি সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় নওগাঁর ৬টি আসনের প্রার্থী সামসুজ্জোহা, জাহেদুল ইসলাম ধলু, শেখ রেজাউল ইসলাম, ইকরামুল বারী টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান এবং জয়পুরহাটের দুই প্রার্থী আব্দুল বারী ও মাসুদ রানা প্রধান বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহীন শওকত, এএইচএম ওবায়দুর রহমান চন্দন, এম এ মতিন, মাহবুবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাজমুল হাসানসহ জেলার অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

নওগাঁয় নির্বাচনী সমাবেশ করে তারেক রহমানের গাড়িবহর সন্ধ্যা ৭টায় বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।