শিরোনাম

মো. মামুন ইসলাম
রংপুর, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : তারেক রহমানের আগামীকাল শুক্রবার রংপুর সফর উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে অদম্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ (জেএস) নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে দলটির বিভাগীয় পর্যায়ের বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।
বিএনপি নেতারা আশা করছেন যে, আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এই সফর রংপুর বিভাগের আটটি জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করবে। পাল্টে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ।
তারেক রহমানের রংপুর আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপি নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়।
মাঠ ও মঞ্চ সাজানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মানুষের আগমন ও প্রস্থান নিরাপদ করার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানায়, নগরীর প্রবেশপথে যৌথ বাহিনী সন্দেহজনক যানবাহন এবং ব্যক্তিদের তল্লাশি করছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নগরীর প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আয়োজকরা আশা করছেন, নির্বাচনী প্রচারণা জনসমুদ্রে পরিণত হবে, যেখান থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নসহ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার প্যাকেজ সম্পর্কে কথা বলবেন।
তিনি আগামীকাল বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় রংপরের আটটি জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ২০০৪ সালে শীতার্তদের মধ্যে গরম কাপড় বিতরণের পর দুই দশকেরও বেশী সময় পর রংপুর সফরে আসছেন।
তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত।
নির্বাচনী বিধি ও আচরণবিধি বজায় রেখে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামীকালের সফরকে সফল করার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সুরভী উদ্যান, ডিসি মোড়, জেলা স্কুল, ডাকঘর, পুলিশ লাইন মোড়, সিটি বাজার এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক লাউডস্পিকার স্থাপন করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু আজ রংপুর চেম্বার ভবনে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় অংশ নেন। রংপুরের ছয়টি আসনের জন্য বিএনপি মনোনীত ছয়জন প্রার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি সেখানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারেক রহমানের রংপুর সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট উপস্থাপন করেন ও নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, রংপুর বিভাগে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ নানা সমস্যা, উন্নয়ন বঞ্চনা নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি আমাদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত। তিনি জনসভায় রংপুরের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে যাবেন।
এ জনসভা সফলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
আজ বাসস-এর সাথে আলাপকালে রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য-সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, ২০০৪ সালের পর থেকে দুই দশকেরও বেশী সময় পর রংপুরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানানো এবং সফরকে সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কারমাইকেল কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু বলেন, তারেক রহমানের রংপুর সফর এবং সমাবেশ আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, সমাবেশে, তারেক রহমান রংপুর অঞ্চলের জন্য তার উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন এবং ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষ-এর জন্য ভোট চাইবেন। এতদিন পর তার আগমনে আমরা আনন্দিত ও উদ্বেলিত।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি চলছে।
সফরকালে তারেক রহমান আগামীকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ২০২৪ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।
পরে তিনি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রংপুর শহরে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন।
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী (সদর এবং রংপুর সিটির অংশ) মো. সামসুজ্জামান সামু বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রংপুরে আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে রংপুর মহানগর পুলিশ সকল ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।
জনসভাস্থল ছাড়াও সমগ্র শহরের চেকপোস্ট, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং মোড়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা হবে। এছাড়াও, মাঠ এবং শহরজুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন প্রয়োগকারী কর্মী উপস্থিত থাকবেন।
রংপুরে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পর তারেক রহমান বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে উজ্জীবিত রংপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা।
তার রংপুর বিভাগে আগমনে পাল্টে যেতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকার ভোটের হিসাব।
রংপুর মহানগর ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আজিজুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের রংপুরে আসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম।
এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং তিনি রংপুরকে বৈষম্যমুক্ত করে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে যাবেন।
রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সার্বিক উন্নয়নে বিএনপি রংপুর বিভাগের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের কাছে নানা দাবি তুলে ধরা হবে।
রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ দলে দলে এ জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।
বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান নির্বাচনী সফরে শুক্রবার বগুড়া থেকে রংপুরে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।
সেখান থেকে তিনি রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
ওইদিন রাতে রংপুর থেকে বগুড়ায় ফিরবেন তিনি। সেখানে রাত্রিযাপন করে পরদিন শনিবার সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান।