শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’কে জড়িয়ে ‘দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ বলা পতিত ফ্যাসিস্টদের সুরে অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো মিথ্যা ও প্রতারণামূলক ‘দুর্নীতির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ বয়ান প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পতিত ফ্যাসিস্টদের সুরেই তারা এই অপপ্রচারের বয়ান শুরু করেছে।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় ওই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলেরও দু’জন সদস্য সরকারে ছিলেন। সেই সময়ে অর্জিত সাফল্য ও পরিস্থিতির দায় বা কৃতিত্ব এড়িয়ে এখনকার অপপ্রচারে লিপ্ত হওয়াকে তিনি ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন আগের সরকারের দুর্নীতির স্কোরকে সুকৌশলে বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, বিএনপির শাসনকালে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো হয়।
মাহদী আমিনের দাবি, ২০০৬ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ে, তখন দুর্নীতির সেই স্কোরকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে আসা হয়েছিল।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে সেই দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, জান্নাতের প্রলোভন, কোরআন শরিফে শপথ করানো, এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে, যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করে যাচ্ছে, আবার তারাই যখন দুর্নীতির গল্প শোনায়, সেটি তাদের তথাকথিত সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি বলেন, একটি নির্বাচনী জনসভায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বাস্তবতা হলো, এই দু’টি বিষয়ই ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। অতএব বিদ্যমান এরকম একটি সিদ্ধান্তকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে একটি দলের নেতাকর্মীদের চাপে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারদের এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংগ্রহের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে সতর্কবার্তা ও আইনি ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে বিএনপি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বলেই জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সময়োপযোগী সতর্কবার্তার উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
গুলশানের এই বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে আগামী নির্বাচনে প্রচারণা ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় বলে জানা গেছে।