শিরোনাম

কুমিল্লা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ চায় একটু ভালোভাবে বাঁচতে, তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সন্তানরা যেন মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং পরিবারটি যেন স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে।
তিনি বলেন, মানুষ চায় ঝামেলাহীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরি করতে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী নিজের কাজ করার নিশ্চয়তা পেতে। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি এসব নিশ্চয়তাই আজ দেশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তা নিশ্চিত করা হবে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা মায়েদের হাতে একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকার থেকে কিছু সহযোগিতা দেয়া হবে। আমরা কখনোই বলিনি যে মাসে যা যা লাগে সবকিছুই দেয়া হবে। আমরা বলেছি সরকার থেকে মাসিক কিছু সহযোগিতা দেয়া হবে, যাতে পরিবারগুলো উপকৃত হয়। আমরা এই কাজটি বাস্তবায়ন করতে চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং তাদের জন্য একটি কৃষক কার্ড চালু করতে চাই। কেউ কেউ বলছেন, এটাও নাকি ধোঁকা। ধোঁকা দিলে তো ক্ষতি আমারই। পরেরবার কি মানুষ আমাকে বিশ্বাস করবে? আমার তো রাজনীতি করতে হবে। রাজনীতি করতে হলে যে কথা দিচ্ছি, তা রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা করার পরও যদি কোনো কিছু বাস্তবায়ন করা না যায়, সেটা জনগণই দেখবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রথমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বড় কৃষকরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, কুমিল্লা অঞ্চল হচ্ছে সবজির ভাণ্ডার। কিন্তু বড় সমস্যা হলো খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে চাষাবাদে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রত্যেকটি খাল খননের কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু বড় সমস্যা হলো বেকারত্ব। শুধু কুমিল্লায় নয়, সারা দেশেই বেকার সমস্যা রয়েছে। বিএনপি বেকারদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, তারা যে দেশে যেতে চায়, সে সুযোগও সৃষ্টি করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, কুমিল্লার অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। কুমিল্লায় একটি আরবী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে আগ্রহীদের জন্য তা অত্যন্ত উপকারী হবে। এভাবেই কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এই এলাকার বহু মা-বোন ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাদের জন্য ছোট ছোট ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে এবং একই সঙ্গে তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে এমন একটি শ্রেণি রয়েছে, যারা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মানুষকে পরামর্শ দেন তারা হচ্ছেন মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিনরা। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। আগামী ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমেই বিএনপিকে নির্বাচিত করতে হবে। বিএনপিই একমাত্র দল যারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বেকারদের কর্মসংস্থান ও হেলথ কেয়ার ব্যবস্থার কথা বলেছে, যাতে অসুস্থ শিশু, মা ও বোনেরা ঘরে বসেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
সবশেষে তিনি বলেন, ভোটের দিন ভোরবেলাতেই ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোট দেয়ার পর ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রকারী নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিয়ম করতে না পারে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের দলীয় প্রার্থী কামরুল হুদার সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) কেন্দ্রীয় নেতা কাজী নাহিদ, চৌদ্দগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি জিএম তাহের পলাসীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে তারেক রহমানের এই সফর কুমিল্লায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চৌদ্দগ্রাম জনসভা শেষে তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজীর ফুলতলী মাঠের জনসভায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কুমিল্লা সফরে আসেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে দুপুর থেকেই জনসভাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।