বাসস
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৩

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ডে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যর্থনা জানানো হয়। মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লে লাখো মানুষ দাঁড়িয়ে অভিবাদন, করতালি ও মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। মহাসমাবেশকে ঘিরে পলোগ্রাউন্ডে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এ মহাসমাবেশকে সফল করতে টানা এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় বিএনপি। আজ রোববার (২৫, জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ পলোগ্রাউন্ডে জড়ো হতে থাকেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে সমাবেশ শুরু হলেও তার অনেক আগেই বিশাল মাঠটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এ উপলক্ষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শহরের বিভিন্ন সড়কে বিএনপি’র দলীয় ও জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগান সংবলিত পোস্টার ও শিল্পকর্মে সজ্জিত করা হয়। নগরীর পাশাপাশি জেলার ১৬টি আসনে সমাবেশ সফল করতে দিনভর মিছিল ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

সকাল থেকেই চট্টগ্রাম মহানগরের ৪১টি ওয়ার্ড এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে অগ্রসর হন। অসংখ্য মিছিলের কারণে একপর্যায়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল গড়াতেই পুরো শহর যেন মিছিলের নগরীতে রূপ নেয়- সব রাস্তা যেন পলোগ্রাউন্ডমুখী।

দীর্ঘ ২১ বছর পর চট্টগ্রামে আসা এবং প্রায় দুই দশকের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে আজকের সমাবেশে যোগ দেওয়া তারেক রহমানকে একনজর দেখতে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও সমাবেশে অংশ নেন।

সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছালে পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণভাবে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপিত মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তার বক্তব্য শোনেন।

সমাবেশ শেষে বিএনপির নেতাকর্মী, বিশেষ করে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেক নেতা ও প্রার্থী মনে করেন, তারেক রহমানের সুসংগঠিত ও হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে জাতীয় ইস্যুর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলোর সমাধানে প্রতিশ্রুতি দেন, যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনোবল আরও দৃঢ় করে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। চট্টগ্রামের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৯৮১ সালে তাঁর শাহাদাত এবং ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ থেকে তাঁর মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরলে উপস্থিত জনতাও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে।