বাসস
  ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৩
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৫

ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনে পোস্টাল ব্যালটের বাক্স প্রস্তুত করলো ইসি

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যালট বাক্স সিলগালা (লকিং) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ‘আউট অফ কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিবি) ও ‘ইন কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালট’ (আইসিপিবি) ভোটিংয়ের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইটিআই ভবনের পঞ্চম তলায় ৫০৫ নম্বর কক্ষে ঢাকা-১৩ ও ষষ্ঠ তলায় ৬০৬ নম্বর কক্ষে ঢাকা-১৫ আসনের জন্য ভোট কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। 

ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন ৫ হাজার ৬১৭ জন। তাদের ভোট সংরক্ষণের জন্য মোট ১৪টি ব্যালট বাক্স প্রস্তুত করা হয়েছে।


ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওসিবি ও আইসিপিবি পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের ঢাকা-১৩ আসনে ৫ হাজার ৬১৭ জন নিবন্ধিত ভোটারের জন্য ১৪টি এবং ঢাকা-১৫ আসনে ৭ হাজার ৪০৫ জন ভোটারের জন্য ১৯টি ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক এই নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, আজ প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সামনে নির্ধারিত লক সিল দিয়ে ব্যালট বাক্সগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 


নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী আরও বলেন, ‘এই ব্যালট বাক্সগুলো কোন নম্বর দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।’

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ডাক বিভাগ থেকে ব্যালট আসার পর আমাদের নির্ধারিত বারকোড মেশিন দিয়ে স্ক্যান করা হবে। যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে তা আমাদের ল্যাপটপে ডিজিটালি সেভ করা হবে এবং ব্যালটের খামটি বক্সে সংরক্ষণ করা হবে। 

ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক এই নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভোট কক্ষগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি পাহারা থাকবে।’

ইউনুচ আলী আরও বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত যেসব পোস্টাল ব্যালট আসবে সেগুলোই গ্রহণ করে বক্সে ঢোকানো হবে।’

তিনি বলেন, এর পরে আসা ব্যালট রিসিভ করা হলেও, তা আর বক্সে প্রবেশ করানো হবে না বা গণনায় আসবে না।

ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রতিটি বাক্সে ৪০০ জন ভোটারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী আমরা বাক্সগুলোকে লক করেছি।’

তিনি আরও বলেন,  ডাক বিভাগ থেকে পোস্টাল ব্যালট আসার পর বারকোড স্ক্যানার দিয়ে যাচাই করে ১২ নম্বর ফর্মে এন্ট্রি করা হবে। এরপর পোস্টাল ব্যালটের খামগুলো বাক্সে রাখা হবে।

গণনা পদ্ধতি সম্পর্কে ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পর ভোট গণনার সময় প্রার্থীরা বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে বাক্সের লক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। 

অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘নম্বর ঠিক থাকলে লক খুলে গণনা শুরু করা হবে।’