বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:১০
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:১২

সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ বুধবার

নির্বাচন কমিশন ভবন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। আগামীকাল ২১ জানুয়ারি বুধবার নির্বাচনি এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা শুরু হবে এবং ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে। 

ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।

প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে,  ‘প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরের দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করতঃ নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।’ 

নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ: এ বিষয়ে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে,  গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২০ অনুসারে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি কোন নির্বাচনি এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা এক বা একাধিক হয় তা হলে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নিম্নরূপভাবে প্রতীক বরাদ্দ করার বিধান রয়েছেঃ (ক) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে উক্ত দলের অনুকূলে সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করা। 

(খ) স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুকূলে বিধি অনুসারে নির্ধারিত কোন প্রতীক বরাদ্দ করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দের সময় যতদূর সম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

রাজনৈতিক দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২০ এর দফা (১) এর উপদফা (ক) অনুসারে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অনুকূলে প্রতীক সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। মনোনয়নপত্রের সাথেই কোন দলের কোন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তা উল্লেখ থাকবে। একটি রাজনৈতিক দল হতে একাধিক মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি বিকাল ৫ টার মধ্যে রাজনৈতিক দলসমূহ তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন। তদানুযায়ী রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত প্রতীক উক্ত দলের মনোনীত প্রার্থীকে বরাদ্দ করবেন। তবে প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে প্রার্থী কোন্ রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন সে সম্পর্কে দলিলাদি দ্বারা প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হবেন। 

স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক: রাজনৈতিক দলের অনুকুলে প্রতীক সংরক্ষণের পর নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৯ এ উল্লিখিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক হতে যতদূর সম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পছন্দকে বিবেচনায় রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীগণের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ করতে হবে। একই প্রতীক বরাদ্দের জন্য একাধিক প্রার্থী দাবী জানালে তাদেরকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রতীক পছন্দের আহবান জানাতে পারেন। যদি তাঁরা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন তাহলে লটারি মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। উল্লেখ্য যে, একাধিক স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে কোন প্রার্থী ইতোপূর্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে তিনি তার পছন্দের প্রতীক প্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ পাওয়ার অধিকারী হবেন, যদি না তা কোন দলের জন্য সংরক্ষিত হয় বা ইতোমধ্যে অন্য কাউকে বরাদ্দ করা হয়।

প্রার্থীকে প্রতীকের নমুনা প্রদান: প্রতীক বরাদ্দের পর পরই প্রতীকের একটি নমুনা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে সরবরাহ করবেন। কারণ তা তার প্রচারণার জন্য প্রয়োজন হবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে প্রতীকসমূহের নমুনা পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য যে, বিধিতে উল্লিখিত প্রতীকের নমুনা সম্বলিত পোস্টার ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন হতে সরবরাহকৃত প্রতীকের নমুনার বাহিরে অন্য কোন প্রতীক বরাদ্দ বা প্রতীকের নমুনা কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সরবরাহ করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে রোববার ইসি আপিল নিষ্পত্তি শেষ হয়।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়।  এরমধ্যে আপিল মঞ্জুর হয়েছে ৪২৫টি। এছাড়া ২০৬টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। আর ১৪টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টিকে বৈধ এবং ৭২৩টিকে বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।