বাসস
  ১১ জুন ২০২৬, ২২:৪৫

বিনিয়োগ বাড়াতে সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা, ৭ দিনের মধ্যে অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলেন। ছবি: পিএমও

সংসদ ভবন , ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস): বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যেখানে আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এসব কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থায় আবেদন জমা, যাচাই, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, প্রতিটি অনুমোদন ও লাইসেন্স সেবার জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দিলে ‘ডিমড’ বা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে তারা দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে পারেন। একইসঙ্গে কোম্পানির নাম ছাড়পত্র, নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদানসহ পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা দশ দিনের মধ্যে প্রদানের ব্যবস্থা সহজ করা হবে। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি বিনিয়োগকারী ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বড় ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য সহায়তা কর্মকর্তা, প্রকল্পভিত্তিক কেস ম্যানেজার এবং সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক চালু করা হবে। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আধুনিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদারে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন ও লাইসেন্স প্রদানসহ সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে।

এছাড়া নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প সুবিধা চালু করা হবে। এর আওতায় জমি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক অনুমোদন আগেই প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।