বাসস
  ১১ জুন ২০২৬, ২১:২১

ক্রিয়েটিভ শিল্পের সম্ভাবনাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনা হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলেন। ছবি: পিএমও

সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। 

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণে কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিক্তিক পণ্য চিহ্নিতকরণ ও ডিজাইন উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। দেশজুড়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলতে ১০ বছরের বিনিয়োগ ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্লনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্রিয়েটিভ পণ্যের উন্নয়ন ও নকশার মানোন্নয়নের জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’ গঠন করা হচ্ছে।  

তিনি বলেন, অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হ্যারিটেজ স্থাপনা পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে দুই-তিনটি থিমের ওপর ভিত্তি কওে দু’টি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। পর্যটন খাতের পেশাজীবীদের বিশ্বমানের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। 

তিনি বলেন, রন্ধনশিল্পসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানদ-ে উন্নীত করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালিটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করা হবে। পর্যটন খাতের প্রশিক্ষণার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত সংস্থা কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানদ-ের ভিত্তিতে সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন খাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা, বৈচিত্র্য এবং আধুনিক ক্রিয়েটিভ থিমগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সময়োপযোগী ও সমন্বিত ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন তিনি।