শিরোনাম

জাতীয় সংসদ, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জন্য ১৯৭ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এ প্রতিষ্ঠানে মোট বাজেট ছিল ২০৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ এবার ৬ কোটি টাকা কমেছে।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ১৮৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ১০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর তফসিলভুক্ত অপরাধসমূহের অনুসন্ধান ও তদন্ত, মামলা দায়ের, চার্জশিট ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন, মামলা পরিচালনা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া অভিযোগ ও মামলা-সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এনফোর্সমেন্ট ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্নীতির উৎস চিহ্নিতকরণ, গবেষণা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দুর্নীতিবিরোধী গণসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সকল জেলায় ১৩ সদস্যবিশিষ্ট মহানগর ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং সকল উপজেলায় ৯ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা চর্চা উৎসাহিত করতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘সততা সংঘ’ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষার্থীদের সততা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ নামে বিক্রেতাবিহীন স্টোর চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে বলে বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে।
এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়।