শিরোনাম

সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস): অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অপরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করা অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সর্বনিম্ন ব্যয়ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বা ‘লিস্ট কস্ট জেনারেশন’ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশকালে তিনি বিদ্যুৎ খাতে পূর্ববর্তী সরকারের অপরিকল্পিত নীতি এবং বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধপূর্বক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিবিড় মনিটরিং করা হচ্ছে। অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সর্বনি¤œ ব্যয়ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বা ‘লিস্ট কস্ট জেনারেশন’ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের পরিপূর্ণ আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো হবে। দুর্গম ও দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুতায়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, বিদ্যুৎখাতের ট্যারিফ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র পদ্ধতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে বিতরণ লাইন ও সাবস্টেশনসমূহ ভূগর্ভস্থ করার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, এসসিএডিএ/জিআইএস/এএমআই ইন্টিগ্রেশনসহ সর্বনি¤œ ব্যয়ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বোত্তম জ্বালানি মিশ্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাওয়ার সেক্টর স্ট্র্যাটেজি পেপার (২০২৬-২০৫০)-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। গ্রাহক সেবা সহজতর করতে নতুন সংযোগ ও বিল পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি গ্যাসভিত্তিক। স্থানীয় গ্যাসের মজুত কমে যাওয়ায় বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎসসমূহের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশÑ যেমন সোলার, উইন্ড এবং ব্যাটারি প্ল্যান্ট দেশে উৎপাদনে বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা ও প্রণোদনা প্রদান করা হবে।