শিরোনাম

সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। সেই তুলনায় এবারের বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ২ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা কমেছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৭ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব করেন।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, নদী-খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ অবকাঠামো নির্মাণ, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ স্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদীর অববাহিকা উন্নয়ন, হাইড্রোলজিক্যাল জরিপ, উপাত্ত সংগ্রহ এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণ এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে নদীতীর ও উপকূলীয় এলাকা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমি সংরক্ষণ, নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং লবণাক্ততা ও মরুকরণ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
পানি সংরক্ষণ জলাধার, বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণ এবং নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ড্রেজিং কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানি সম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন ও দুই পাড় উন্নয়ন প্রকল্প, কপোতাক্ষ নদ ও সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১, এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন প্রকল্প।
এছাড়া বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্প, গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, চলন বিল পুনরুদ্ধার প্রকল্প, টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা উদ্যোগ এবং জাতীয় পানি সম্পদ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাজেটে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন রোধে টেকসই কৌশল উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে পানি সংকট ও লবণাক্ততা নিরূপণের কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।