বাসস
  ১১ জুন ২০২৬, ২০:১২

কৃষক পর্যায়ে ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ অব্যাহত থাকবে

সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর সহায়তায় বিনামূল্যে রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন সংগৃহীত সার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রণোদনা বাবদ কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় জৈব সার, সবুজ সার ও জীবাণু সারের ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে।

আজ জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট বক্তৃতায় অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি এ সময় আরও বলেন, ইতঃপূর্বে বিএনপি সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ বাংলাদেশের একটি সফল সামাজিক আন্দোলনের নাম যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় চালু করেছেন। এ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ও ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস পাবে, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি হবে এবং এর ফলে কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

পরিবেশবান্ধব সেচ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে ৯৮টি সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্প এবং ২৭টি সৌরশক্তিচালিত ডাগ-ওয়েল স্থাপন করা হবে বলে মন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির (যেমন : ড্রিপ ইরিগেশন, একুয়েফার রিচার্জ) প্রসার ঘটানো হবে।

তিনি বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও উন্নত প্যাকেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ফসল সংগ্রহোত্তর (ঢ়ড়ংঃ-যধৎাবংঃ) ক্ষতি কমিয়ে আনা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আধুনিক সংরক্ষণাগার, প্যাকেজিং হাউজ, কুল চেইনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধামূলক স্থাপনা নির্মাণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আম চাষীদের জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ হিমাগার স্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হচ্ছে। কৃষি গবেষণাকে গুরুত্ব প্রদান করে প্রতি বছর নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় লবণাক্ততা ও খরা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনে কৃষি গবেষণা জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে 'এগ্রোপ্রেনারশীপ স্টার্ট-আপ নীতিমালা' এবং বৃহৎ পরিসরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষিঋণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে 'কৃষি সমবায় নীতিমালা' প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।