বাসস
  ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৯

মানারাতের ছাত্র নাসিম হত্যা: বন্ধু আসিফ শিকদারের মৃত্যুদণ্ড 

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসিম আহমেদ এমাজউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তার বন্ধু আসিফ শিকদারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসিফকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসিফ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী তানজীল হোসেন ভূঁইয়া বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে পূর্ব বাড্ডা পোস্ট অফিস গলির একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন নাসিম। সেখানে কয়েকজনের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি তাদের থামতে বলেন। সেখানে থাকা রমজান তাকে জানান, তারা টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরছিলেন। নাসিম তাদের বাজি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করতে নিষেধ করলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

আসিফ একপর্যায়ে রমজানকে থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি নিয়ে রমজানসহ কয়েকজন আসিফের বাসায় গিয়ে তাকে হুমকি দেন। পরে আসিফও তাদের ফোন করে হুমকি দেন।

এ ঘটনার পরদিন ৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজারে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন আসিফ। বাসার নিচে নামার পর তিনি নাসিমকে ছুরিকাঘাত করেন। ছুরিকাহত নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে পড়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিনই নাসিমের বাবা গ্রিন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আহাম্মদ সাইফুদ্দিন বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসিফ, রমজান ও আব্দুর রশীদের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়।

২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসিফকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশ। তদন্তে রমজান ও আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।