শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের মামলায় রুপম চৌধুরী (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের আদালত। পাশাপাশি তাকে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রুপম চৌধুরী জেলার বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী এলাকার দয়াল চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর মধ্যম নাথপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন জানান, মাদকের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রুপম চৌধুরীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায়ের সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার মূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
জানা যায়, আসামি রুপম চৌধুরী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৩৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৯ টাকার স্থাবর ও ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯১ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৮৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এছাড়া তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রুপম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দু’টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকায় জমি ও একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছিল।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি দৈনিকে ‘ইয়াবা রূপম’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদক বিষয়টি আমলে নেয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে রুপম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ২০২১ সালে দুদক তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়। রুপম চৌধুরী নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করলেও যাচাই-বাছাইয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য গোপনের বিষয়টি উদঘাটিত হয়।