বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১২

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার রায় অপেক্ষমান

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হৃদয়স্পর্শী ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলা বর্তমানে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। মামলাগুলোর রায় যেকোনো দিন ঘোষণা হতে পারে।

আলোচিত এই দুটি মামলা হলো- রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলা এবং রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলির মামলা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, দু’টি মামলাই রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। এই দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩৫ জন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলা :

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে। উভয় পক্ষের শুনানি ও যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ১৭ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন।

এর আগে গত ৩০ জুন বেরোবি’র তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

এই মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন- বেরোবি’র সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেরোবি’র সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তিনি ছিলেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ভিডিও দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই ঘটনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

বর্তমানে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলির মামলা :

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটিও রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করবেন।

মামলাটির পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশের খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান এবং পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

অন্য আসামি পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।