বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৪

বিচার বিভাগে ডিজিটাল বিপ্লব : আরও ৮ জেলায় ‘ই-বেইলবন্ড’ চালু

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় দেশের আরও আটটি জেলায় আজ বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ই-বেইলবন্ড’ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার সুবিধা চালু করা হয়েছে।  জেলাগুলো হলো হচ্ছে- মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি এই সেবার উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। 
আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং জামিন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই ব্যবস্থা চালুর ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানির অবসান ঘটবে।’

তিনি বলেন, ‘ই-বেইলবন্ড’ প্রবর্তনের ফলে জামিন পাওয়ার পর এখন আর কাউকে অনর্থক এক মুহূর্তেও বেশি কারাগারে থাকতে হবে না।’

আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের ১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে দেশে প্রথমবারের মতো পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রম শুরু চালু করা হয়েছিল। 

আইন উপদেষ্টা জানান, সেখানে এই পদ্ধতি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। বর্তমানে ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে বেইলবন্ড অনলাইনেই দাখিল করা হচ্ছে। সেই সফলতার ওপর ভিত্তি করেই আজ আরও আটটি জেলায় এই সেবা সম্প্রসারণ করা হলো।

পূর্ববর্তী ব্যবস্থার ভোগান্তি থেকে মুক্তি : 

আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ই-বেইলবন্ড’ চালুর আগে জামিন মঞ্জুরের পর মুক্তি পেতে অনেকগুলো শারীরিক ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এতে বিচারপ্রার্থীদের অপ্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও মানসিক যন্ত্রণা পোহাতে হতো। এমনকি জামিন পাওয়ার পরও দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেককে কয়েক দিন বা সপ্তাহকাল পর্যন্ত জেলেই থাকতে হতো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে কোথায় দেরি হচ্ছে, তা বোঝার কোনো সুযোগ ছিল না।

নতুন সিস্টেমের সুবিধা ও স্বচ্ছতা : 

আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিচারকের ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর বেইল বন্ড সরাসরি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট জেলখানায় পৌঁছে যাবে। মধ্যবর্তী অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বিলুপ্ত হওয়ায় কারাগারে আটক ব্যক্তি মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ একদিনের মধ্যে মুক্তি পাবেন। সিস্টেমের প্রতিটি ধাপে কে-কখন স্বাক্ষর করছেন তা ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, যা বিচার বিভাগে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এর ফলে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের যাতায়াত খরচ কমার পাশাপাশি সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয়ও সাশ্রয় হবে।

অন্যান্য ডিজিটাল অর্জন : 

ই-বেইল বন্ডের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে আধুনিকায়ন করতে আরও বেশ কিছু সেবা চালু করেছে। সেগুলো হলো- ১. ই-ফ্যামিলি কোর্ট: ঢাকা ও চট্টগ্রামে পারিবারিক মামলার আবেদন ও পরিচালনা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে করা যাচ্ছে।

২. ই-সত্যায়ন: দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর কষ্ট লাঘবে চালু হয়েছে অনলাইন সত্যায়ন সেবা।

৩. ই-কজলিস্ট: অনলাইনেই মামলার তারিখ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের সারাংশ দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

৪. অনলাইন লিগ্যাল এইড: সরকারি আইনগত সহায়তার আবেদন ও বিরোধ নিষ্পত্তি এখন অনলাইনে সম্ভব হচ্ছে।

আরও দুই সেবা চালু চূড়ান্ত পর্যায়ে : 

আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগিরই বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করার জন্য ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। 

এছাড়া, সম্পত্তি নিবন্ধনের ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমাতে ‘ই-রেজিস্ট্রেশন’ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। রেজিস্ট্রেশন আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে, যা চালু হলে জমি কেনাবেচায় মানুষের হয়রানি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।