বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৮

বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো : নীলফামারী-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফীর। ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারী, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মান্নোয়নের প্রত্যাশা নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফীর। 

তিনি চান মানুষের দোরগড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছাতে এবং নদী শাসনের মাধ্যমে  তিস্তাপাড়ের মানুষের ভাগ্যন্নোয়ন করতে।

আসনটিতে চার প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী অন্যতম। তিনি জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। অন্যরা হলেন, বিএনপির সৈয়দ আলী, জাতীয় পার্টির রোহান চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন (সরকার)।

সম্প্রতি নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা ভুবন রায় নিখিল।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

ওবায়দুল্লাহ সালাফী : এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণে কর্মসংস্থানের ঘাটতি রয়েছে। আমি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। শিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে এ এলাকা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেবো। এলাকার রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও উন্নয়ন করে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে বিগত দিনের বৈষম্য, বঞ্চনা দুর করবো। চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগড়ায় পৌঁছাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মান্নোয়ন করবো। যাতে এলাকার অসহায় এবং নিম্ন আয়ের মানুষ সহজেই চিকিৎসা সেবা পায়।

নির্বাচনী এলাকার বিরাট একটা অংশ তিস্তা এবং তিস্তার শাখা নদী বেষ্টিত। এই এলাকার মানুষ বর্ষা এবং শুষ্ক উভয় মৌসুমেই সংকটে থাকে। একদিকে বন্যার কড়াল গ্রাস, অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কাঙ্খিত সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। তিস্তাপাড়ের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নের জন্য তিস্তার সঙ্গে যে সকল শাখা নদী আছে নদী শাসনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি রক্ষা এবং সেচের মাধ্যমে কৃষি সুবিধা নিশ্চিত করবো।

এটি কৃষি প্রধান এলাকা। আলু ভুট্টাসহ নানা কৃষি পণ্য ব্যাপক উৎপাদিত হয়। এলাকায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করার কোনো কলকারখানা নেই। এ জন্য কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না কৃষক। এসব কৃষিপণ্য দূরবর্তী স্থানে ঢাকা অথবা অন্য কোথাও প্রক্রিয়াজাত হয়ে আবার এলাকায় আসে। ফলে কম দামে বিক্রি করে ডবল দামে কিনতে হয়। এলাকায় কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপন করার বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া খেলাধুলাসহ অন্যান্য যে সমস্যা আছে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করবো।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

ওবায়দুল্লাহ সালাফী : জামায়াতে ইসলামী সুশৃঙ্খল দল। আমাদের নেতা কর্মীরা অত্যন্ত সজাগ এবং সচেতন। বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া আছে, কোনো অবস্থাতে আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি একবিন্দুও লঙ্ঘন করবো না। এ ক্ষেত্রে আমার পক্ষ থেকে আমার দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।  সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ত্রুটি বিচ্যুতি হবে না।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

ওবায়দুল্লাহ সালাফী : ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এগুলোর সব দাবি কিন্তু এক। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমার পক্ষ থেকে জনগণের জন্য সুস্পষ্ট প্রস্তাব থাকবে যাতে করে আমাদের দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম না হয়, আমাদের দেশে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি খেলা না হয়। এ জন্য গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে আমার এবং দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

ওবায়দুল্লাহ সালাফী: নির্বাচন কমিশন জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষেত্রে অধিকতর সজাগ এবং সচেতন থেকে, জুলাই যুদ্ধে যারা জীবন দিলেন, শহীদ হলেন, একাত্তরে যারা জীবন দিলেন, আহত হলেন, পঙ্গু হলেন এবং ৯০ এর গণঅভ্যুথানের মাধ্যমে যারা জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, নির্যাতনে শিকার হয়েছেন জেল খেটেছেন, গুম খুনের শিকার হয়েছেন, ফাঁসির শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে যদি একটি অবাধ সুষ্ট নির্বাচনের পরিবেশ যেন নিশ্চিত হয়।

জলঢাকা উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৩ আসন। কৃষি নির্ভর এ আসনে নেই উল্লেখযোগ্য শিল্প কারখানা। তিস্তা, বুড়ি তিস্তাসহ আরও কয়েকটি নদী প্রবাহিত হয়েছে আসনটি দিয়ে। প্রতিবছর তিস্তার বন্যার বড় ধাক্কা পড়ে কৃষিতে।

এখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৭, পুরুষ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। গত নির্বচনের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে ১৯ হাজার ১০৫ জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১০৫টি।