শিরোনাম

ভোলা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তফা কামাল ন্যায়ভিত্তিক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এছাড়াও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
ভোলা- ৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তফা কামাল। পিতা: মৌলভী মুসলিম, মাতা: আক্তারা বেগম।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: কামিল (হাদিস)। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে তার বড় ছেলে আরিফুর রহমান মুকুলকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার ক্রসফায়ারে হত্যা করে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তফা কামালের সাথে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)'র মুখোমুখি হয়ে তিনি তার এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের ভোলা জেলা সংবাদদাতা আল-আমিন শাহরিয়ার।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?
মাওলানা মোস্তফা কামাল: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রবিন্দু হবে—ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। ধর্ম বর্ণ দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম কাজ।
প্রথমত, নদী ভাঙন ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে টেকসই বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবায় জনভোগান্তি কমাতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
এছাড়াও জীবিকা ভিত্তিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সর্বোপরি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, সহজপ্রাপ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মাওলানা মোস্তফা কামাল: নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি পবিত্র প্রক্রিয়া। আমি শুরু থেকেই আমার সকল নেতাকর্মীকে আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, সংযম ও শিষ্টাচার বজায় রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি।
কোনো প্রকার সহিংসতা, প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় করার রাজনীতি আমি সমর্থন করি না। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও আমি কঠোর অবস্থানে আছি।
আমার বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলনের একমাত্র পথ।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মাওলানা মোস্তফা কামাল: জুলাই সনদ একটি ঐতিহাসিক ও সংবিধানিক গুরুত্বসম্পন্ন দলিল। এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের প্রশ্নে আমার অবস্থান হলো—জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত।
গণভোটে আমার স্পষ্ট অবস্থান ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে, তবে গণভোটের আগে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ আলোচনা, নিরপেক্ষ তথ্য উপস্থাপন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
আবেগ নয়, বরং যুক্তি, ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের আলোকে জনগণ যেন সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সে পরিবেশ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
মাওলানা মোস্তফা কামাল: আমার প্রত্যাশা—এ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। জনগণ যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের আস্থার প্রতিফলন হয়।
আমি আশা করি, এ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করবে এবং বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
ভোলা-৪ আসন (চরফ্যাশন-মনপুরা) উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভোলা-৪ নির্বাচনী আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন-৬ দলের ছয়জন প্রার্থী।
এরা হলেন-বিএনপির মো. নুরুল ইসলাম নয়ন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তফা কামাল (দাড়িঁপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দীন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান (লাঙ্গল), আমজনতার দলের মো. জালাল উদ্দীন রুমী ( এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আবুল কালাম।
তবে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর সাথে বিএনপি প্রার্থীর হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন সেখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
উল্লেখ্য, ভোলা-৪ আসনটি চরফ্যাশন-মনপুরা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ১১৭ নম্বর আসন।
জানুয়ারি ২০২৬ এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে এবার ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ২৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার, ২ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৩ জন, নারী ভোটার, ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন।