বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৯

ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাই : টাঙ্গাইল-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক

অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক। ফাইল ছবি

টাঙ্গাইল, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : টাঙ্গাইল-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সুন্দর ও নিরাপদ কালিহাতী গড়তে ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাই।  

এছাড়া এলাকার উন্নয়নে তিনি জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়াই করা অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক। দিয়েছেন নানা প্রশ্নের উত্তর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক: আমি মনে করি, দেশে ইনসাফের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কারও প্রতি অবিচার হবে না। আমরা একটি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণমুখীরাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমার নির্বাচনী এলাকা কালিহাতী উপজেলাকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এখানকার মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সেটা সব জনগণ সাবলীলভাবে ভোগ করতে পারে সেটার বাস্তবায়ন করতে চাই।

আমরা মানুষের জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষার জন্য কাজ করবো। যমুনার চরাঞ্চলে নদী ভাঙ্গন রোধে নদী শাসন ব্যবস্থা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাঘাট, ব্রিজ,  কালভার্ট নির্মাণ করতে চাই। বেকার যুবক ও নারী সমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা আমার অন্যতম প্রতিশ্রুতি। এ ছাড়া প্রায় হারিয়ে যাওয়া তাঁত শিল্প, মৃৎশিল্প ও কাঁসা-পিতল শিল্পের সংশ্লিষ্টদের উজ্জীবিত করতে এই শিল্পে উদ্যোক্তাদের সুদ মুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে চাই। সেই সঙ্গে এলেঙ্গা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে ৬ লেনে রূপান্তর করতে চাই যদি আল্লাহ নির্বাচিত হওয়ার তৌফিক দান করেন।

অন্যদিকে এ উপজেলায় চরাঞ্চলসহ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়য় পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে চাই। দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও বিল খননের ব্যবস্থা করে চাষাবাদের জন্য পানি সরবরাহ করা এবং শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে চাই। অপর দিকে কৃষকদের যথাসময়ে স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ ব্যবস্থা এবং সুদ মুক্ত ঋণ ব্যবস্থা করতে চাই। মোটকথা এলাকার মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে ইনশাল্লাহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক : আমার জানামতে নির্বাচনী এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি। নেতাকর্মীকে বলেছি, আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি শতভাগ মেনে চলবো। নির্বাচনী আইনের যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে খেয়াল রেখেই আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক: দেশের মানুষ যেন স্বাধীন ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আমরা আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনী প্রচারণায় আমরা জনগণের কাছে দুটি ভোটের আবেদন জানাচ্ছি। একটি দাঁড়িপাল্লার জন্য।

অপর টি ‘হ্যা’ ভোটের জন্য। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী। আমরা আছি ২৪ এর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে। আমরা সেই আকাঙ্খাকে সম্মান করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব ইনশাল্লাহ। হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক: অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হওয়ার পর মানুষের মধ্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তৈরি হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা হলো, প্রশাসন যেন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে। জাতিকে যেন একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়। এর মাধ্যমে দেশ একটি বড় সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে ২টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ১১৪ টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭২ জন এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) লুৎফর রহমান মতিন, জামায়াতে ইসলামীর মো. অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় পার্টির মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হালিম মিয়া ও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।