শিরোনাম

ভোলা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ আসনে (চরফ্যাশন-মনপুরা) বিএনপি প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম নয়ন চরফ্যাশন-মনপুরাকে পর্যটনের নগরীতে পরিনত করার কথা বলেছেন।
এছাড়াও পিছিয়ে পড়া উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য'সহ মৌলিক অধিকারসমূহ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করার কথা জানান তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি (ধানের শীষ) প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
মোহাম্মদ নুরুল ইলাম নয়ন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার শরিফ পাড়ায় ১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. মহিউদ্দিন মিয়া, মাতা উম্মে কুলছুম। তিনি একজন তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন।
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যাল্টেপুলে বৃত্তি পেয়ে ১৯৮৭ সালে চরফ্যাশন সরকারি টি. ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় থেকে ১৯৯৬-৯৭ সেশনে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
নুরল ইলাম স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ঢাকা কলেজ সাউথ হোস্টেল কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পাঠাগার সম্পাদক, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি (পিন্টু-লাল্টুর কমিটি), সহ-সভাপতি (লাল্টু-হেলাল কমিটি)র দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের ভোলা জেলা সংবাদদাতা আল-আমিন শাহরিয়ার।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?
মো. নুরুল ইসলাম নয়ন: আমি চরফ্যাশনের মানুষ। এই জনপদে আমার জন্ম। এখানকার মানুষের দুঃখ দুর্দশার সব খবর আমার জানা। এখানকার অধিকাংশ যুবক বেকার এবং হতাশায় আচ্ছন্ন। আমি নির্বাচিত হলে চরফ্যাশন-মনপুরায় শিল্পকারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে বড় বড় কোম্পানিগুলোকে এখানে নিয়ে আসবো। তখন এ উপকূলীয় অঞ্চলে আর বেকার সমস্যা থাকবেনা।
তাছাড়া এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার সমূহ যেনো ইনসাফের সাথে বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য নিরলস কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি দুই উপজেলাকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ স্থাপন করে পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটাবো।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে নারীদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো।
বাসস: নির্বাচনী আচরনবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মো. নুরুল ইসলাম নয়ন: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আমরা খুবই সতর্ক। আমার দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে বিএনপি নেতাকর্মীরা যথাযথভাবে নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে চলছেন। আমার এলাকায় আচরণবিধি পালনে আমি সবসময়ই মনিটরিং করছি।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মো. নুরুল ইসলাম নয়ন: আমি নিজেও একজন জুলাই যোদ্ধা। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আমি ছাত্র জনতার আত্মত্যাগ খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি দেখেছি স্বৈরশোষক নিরস্ত্র মানুষকে কিভাবে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। এদেশে জুলাই না আসলে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেতাম না। তাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানে জুলাই সনদে ভিত্তি স্থাপন করতে আমরা সর্বদা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই আছি। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকলকে উৎসাহিত করছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো.নুরুল ইসলাম নয়ন: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেনো সুশৃঙ্খলভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় সেই প্রত্যাশাই করছি। পাশাপাশি ভোটাররা তাদের ভবিষ্যত প্রজম্মের জন্য একটি বাসযোগ্য জনপদ তৈরিতে যেনো যোগ্য প্রার্থীকে ভোটদিয়ে সংসদ সদস্য মনোনীত করেন সেই আশা করছি।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) নির্বাচনী আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন-৬ দলের ছয়জন প্রার্থী। এরা হলেন- বিএনপির মো. নুরুল ইসলাম নয়ন, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলনের আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দীন, জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান, আমজনতা দলের মো.জালাল উদ্দীন রুমী এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আবুল কালাম।
তবে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর সাথে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন সেখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
উল্লেখ্য, ভোলা-৪ আসনটি চরফ্যাশন-মনপুরা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ১১৭ নম্বর আসন। জানুয়ারি ২০২৬ এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে এবার ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ২৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার, ২ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৩ জন, নারী ভোটার, ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন।