শিরোনাম

বাসস, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে ভোট প্রত্যাশা করেছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’কে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের হয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মঞ্জু এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের কাছে প্রত্যাশা, অঙ্গীকার এবং নির্বাচনী পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে বাসস’র সিনিয়র রিপোর্টার মো. আমিনুল ইসলামের খোলামেলা আলোচনা হয় মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুর। সেই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রশ্ন-উত্তর আকারে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
বাসস : আপনার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার কী?
মজিবুর রহমান মঞ্জু : নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের জন্য আমার প্রধান অঙ্গীকার হলো, আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্যের যে কাজ সে কাজে আমি নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। এর বাইরে অন্যান্য কাজ অর্থাৎ ডিসি, এসপি, ইউএনও, জুডিশিয়াল প্রসেসসহ অন্যান্য নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে আমি হস্তক্ষেপ করবোনা।
এর বাইরে ফেনীতে মৌলিক যে কিছু সমস্যা আছে যেমন- বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো, মাদকের বিস্তার রোধ, কিশোর গ্যাং-এর তৎপরতা বন্ধ, পৌরসভায় অপরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা দূর করা, গ্যাস সংকটের সমাধান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা’র স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ফেনীতে বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট স্থাপনসহ বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমার সর্বাত্মক প্রয়াস থাকবে।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মজিবুর রহমান মঞ্জু : নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য প্রথম দিন থেকেই আমরা গুরুত্বের সাথে নির্দেশনা দিয়েছি। যেখানে টুকটাক ভুলত্রুটি হচ্ছে তা সাথে সাথে সংশোধন করে নিচ্ছি। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যখন আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে কাজ করে তখন আমরা মাঠ পর্যায় থেকে খুব চাপে পড়ে যাই। প্রশাসনকেও আমরা দেখি সবার জন্য সমান নীতি তারা পালন করেন না। ইতোমধ্যে প্রশাসনের একপেশে নীতির বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করেছি এবং সুফল পেয়েছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট প্রসঙ্গে আপনার অবস্থান কী?
মজিবুর রহমান মঞ্জু : গণভোট প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার। আমরা একইসাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈগল মার্কা ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মজিবুর রহমান মঞ্জু : আমার প্রত্যাশা হলো জনগণ পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে ভোট দেবে। হিংসা, হানাহানি, দুর্নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং জনগণের অর্থ ও ব্যাংক লুটের পুরোনো রাজনীতিকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। জনগণের ভোটেই একটি নতুন ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ধারার সূচনা হবে—এটাই আমি বিশ্বাস করি।
মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু একজন রাজনৈতিক চিন্তক, সংস্কারপন্থী সংগঠক ও প্রগতিশীল যুব নেতৃত্বের প্রতীক। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর—বাংলাদেশের বিজয় দিবসে—চট্টগ্রামের নন্দনকাননে তার জন্ম। মঞ্জু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৮ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জুর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও ইরান বিপ্লবের মতো বৈশ্বিক ঘটনাবলি তাকে আদর্শিকভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই সময়ে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০২ সালে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল এবং ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তবে দলীয় সংস্কারের দাবি তোলার কারণে ২০১৯ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক চিন্তার ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে তিনি ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২ মে জাতীয় ঐক্য, নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গঠনে তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-আন্দোলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু ও তার দল এবি পার্টি সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন। ১৯ জুলাই প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে ২৭ জুলাই রাতে গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হন। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।