বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৯

বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করতে চাই : টাঙ্গাইল-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান

লুৎফর রহমান মতিন। ফাইল ছবি

টাঙ্গাইল, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : টাঙ্গাইল-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন বলেছেন, কালিহাতীতে পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিল্পায়নের সঠিক সমন্বের মাধ্যমে বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করতে চাই। 

এছাড়া এলাকার উন্নয়নে তিনি জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করা লুৎফর রহমান মতিন। দিয়েছেন নানা প্রশ্নের উত্তর। 

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
লুৎফর রহমান মতিন :নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে কালিহাতী উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ, শিল্প কারখানা স্থাপন ও বেকারত্ব দূরসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সবার আগে করতে চাই।
কালিহাতীতে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সবাই উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে নিরাপদ বোধ করবে এবং অংশীদার হবে। শিক্ষা ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব নয়, আর দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া শিল্পায়ন ও টেকসই কর্মসংস্থান গড়ে ওঠে না। তাই শিক্ষা ও শিল্পকে আলাদা খাতে না দেখে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে চাই।

কালিহাতীতে পরিকল্পিত শিল্প কারখানা গড়ে নি। আল্লাহর রহমতে আমি নির্বাচিত হতে পারলে স্থানীয় তরুণদের আর জীবিকার সন্ধানে ঢাকামুখী যেতে হবে না।  এলাকায় শিল্প স্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্বের হার কমানোর সাথে সাথে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করতে চাই। সেই সঙ্গে নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ কাজ করতে চাই। 

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
লুৎফর রহমান মতিন : রাজনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জনগণের আস্থাভাজন সরকার। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই শিক্ষা ও শিল্পায়নের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারে। 

আমি প্রত্যাশা করি, বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়ে এবারে নির্বাচন ভিন্ন ও অর্থবহ হবে।  সুন্দর এবং সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হোক। আমি যেখানেই যাচ্ছি আমার নেতা কর্মীদের  নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে সতর্ক করছি। নেতা-কর্মীদের আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
লুৎফর রহমান মতিন : আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই আমি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বিভিন্ন নির্বাচনের জনসভায় জনসাধারণকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। আমারও নেতা কর্মীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
লুৎফর রহমান মতিন : আগামী ১২ ফেব্রুয়ার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমার এলাকা কালিহাতীতে উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলছে। আমরা চাই প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। জনগণের অধিকার যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। এখানকার ভোটাররা উন্নয়নে সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীকেই তাদের ভোট দিয়ে জন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এটাই আমার আশা।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে ২টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ১১৪ টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭২ জন এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) লুৎফর রহমান মতিন, জামায়াতে ইসলামীর মো. অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় পার্টির মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হালিম মিয়া ও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।