শিরোনাম

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ঢাকা-১২ গড়ে তুলতে চান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোননিত প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা-১২ এলাকায় কারওয়ান বাজারসহ বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। এই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চাঁদাবাজী। চাঁদাবাজী আগেও ছিল এখনও আছে। এখানকার ছোট বড় সব ব্যবসায়ী চায় চাঁদাবাজীটা যেন বন্ধ হয়। চাঁদাবাজীর সঙ্গে আরেকটি গুরুতর সমস্যা হলো মাদক।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোননিত প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে, ঢাকা-১২ আসন চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করা আমার প্রথম অগ্রাধিকারে থাকবে।’
ঢাকার এই আসনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এইখানে জলাবদ্ধতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৃষ্টিপাত হলে অল্পতেই রাস্তাঘাট পানিতে ঢুবে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। আমাদের টিমে ইঞ্জিনিয়ার আছেন। তারা এটি নিয়ে কাজ করবেন।
সাইফুল আলম আরও বলেন, কিছু কিছু এলাকার সড়কে পর্যাপ্ত আলো না থাকার ফলে এই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার সমস্যা তৈরি হয়। বখাটেরা এই সুযোগ নিয়ে ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে থাকে।
তিনি বলেন, ‘এই এলাকার প্রতিটি সড়ক বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলবো।’
খেলার মাঠগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যেগ নেওয়া হবে উল্লেখ করে সাইফুল আলম বলেন, এই এলাকার খেলার মাঠগুলো যেন সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়, সেদিকে আমরা মনোনিবেশ করবো। এছাড়া খেলার মাঠ ও পার্কগুলোকে নারীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত এই প্রার্থী বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলোতে অনেক মাঠ আছে। অফিস বন্ধ হয়ে গেলে কিন্তু আর সে মাঠগুলো কাজে লাগছে না।
তিনি বলেন, আমরা যদি এই মাঠগুলোকে বাচ্চাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করতে পারি, তবে মাঠের চাহিদাটা খুব সহজেই পূরণ করা যাবে।
প্রাইমারি স্কুল ও হাইস্কুলের সংখ্যা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকায় যে পরিমাণ মানুষ বসবাস করে, সে তুলনায় এখানে প্রাইমারি ও হাইস্কুলের সংখ্যা কম। তাছাড়া বিদ্যমান স্কুল-কলেজগুলোতে পড়াশোনার আধুনিক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সাইফুল আলম, আমাদের এখানে শিল্পাঞ্চলে হাসপাতাল আছে, তবে তা ছোট। এই এলাকায় ৩ লাখের বেশি ভোটার আছেন। কিন্তু এত সংখ্যক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের বেড সংখ্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আমরা সচেষ্ট থাকবো।’
সাইফুল আলম খান মিলন আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আমার চিন্তা আছে। এখানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুব বেশি ভালো নয়। ময়লা রাস্তায় ছড়িয়ে থাকে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করবো। এর ফলে নগরবাসী দীর্ঘদিনের যে দুর্গন্ধময় বাতাস থেকে রক্ষা পাবে।
হাতিরঝিল নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে দুটি বড় সমস্যা— প্রথমত নিরাপত্তা ও দ্বিতীয়ত এখানকার পরিবেশ। হাতিরঝিলকে আরও নান্দনিক এবং এখানে ঘুরতে আসা প্রত্যেক পরিবারের জন্য এই এলাকাকে আরও বেশি নিরাপদ করে গড়ে তুলবো।
ঢাকা-১২ কে ক্লিন এবং গ্রিন এরিয়া হিসেবে গড়ে তুলতে চান সাইফুল আলম।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যে পরিমাণ গাছ থাকার দরকার ছিল, সে পরিমাণ গাছ এখানে নেই। এ বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্লিন এবং গ্রিন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমি জনমত গঠনে কাজ করবো। শুধু তাই নয়, প্রতিটি বাড়ির ছাদে ছাদে মানুষদের গাছ লাগাতে উদ্ধুদ্ধ করবো।
এছাড়াও কারওয়ান বাজারের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো নিয়েও কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সাইফুল আলম বলেন, এখানকার কর্মচারীরা সারারাত কাজ করেন। তাদের জন্য ভালো একটি ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামী আশাব্যঞ্জক সাড়া পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ আসলে পরিবর্তন চায়। তাদের কথা খুবই সিম্পল। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তারা আর কোন সুখবর পায় নাই। জনগণ জামায়াতে ইসলামকে একটি সুযোগ দিতে চায়।
সাইফুল আলম আরও বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে যে জামায়াত পরিবর্তন আনতে পারবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য যে আচরণবিধি বেঁধে দিয়েছেন, সেখানে কিছু কিছু সংশোধন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
জামায়াতে ইসলামীর মনোননিত এই প্রার্থী বলেন, একজন দলের প্রধান যখন একটি সমাবেশ করেন সেখানে কেবল তিনটি মাইক ব্যবহার করে সমাবেশ করা যায় না।
গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, গণভোটে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা বলেছিলাম গণভোট আর সংসদ নির্বাচন আলাদা করতে, কেননা একজন প্রার্থী যখন সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা করেন, তখন একই সঙ্গে তার জন্য গণভোটের প্রচরণা করাটা কঠিন।
সাইফুল আলম বলেন, ‘মানুষ কেবল সংসদ নির্বাচনের কথাই মনে রাখবে, গণভোটের কথা তারা ভুলে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, এটা আমদের দুর্ভাগ্য যে আমরা জাতীয় জীবনে কখনও ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারিনি। এটা বাংলাদেশের একটি জাতীয় সমস্যা।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের খবর পাচ্ছি। এগুলো আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারকে এগুলো নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ইচ্ছে আমাদের তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।