শিরোনাম

পঞ্চগড়, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, প্রাইমারি ও প্রধান বিষয় হলো সিস্টেমগুলো ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষায় ফোকাস করব, এটা আমাদের ভিত্তি।
এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ আসনে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সারজিস আলম।
নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তিনি আলাপ করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা আবু নাঈম।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
সারজিস আলম : আমরা মনে করি অবকাঠামো উন্নয়নটা সেকেন্ডারি। প্রাইমারি এবং প্রধান বিষয় হল সিস্টেমগুলো ঠিক করতে হবে। আমরা প্রশাসন থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি অফিস আদালত- কোথাও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করবো না, হস্তক্ষেপ করবো না।
দ্বিতীয়ত, আমরা স্পষ্ট করে বলি- একটা মানুষ সে যদি অন্য দলের হয়, অন্য ধর্মের হয়, অন্য মার্কায় ভোট দেয়; তারপরও আমাদের দিয়ে কেউ অন্যায়ের শিকার হবে না, যদি না সে কোনো অন্যায় করে থাকে। এরপর আমাদের জায়গা থেকে আমরা শিক্ষায় ফোকাস করবো, এটা আমাদের ভিত্তি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে অপরাজনীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করা যায় এবং মান বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্ট্যান্ডার্ডিং নিয়ে যাওয়া যায়- আমরা সেই জায়গায় কাজ করবো। চিকিৎসার জন্য আমরা যেই চিকিৎসা ঢাকা মেডিকেলে পাই, সেটার জন্য আমাদের পঞ্চগড়ের পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ সম্বলিত হাসপাতালে করে তুলতে পারি, তোর জন্য আমরা কাজ করবো।
মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে, এটার বিকল্প নেই। অন্তত প্রথম মেয়াদে ১০ হাজার কর্মসংস্থান যদি আমরা তৈরি করতে পারি, তাহলে এটা অনেক বড় একটা ইম্প্যাক্ট ফেলবে। শ্রমিক অধিকারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, শ্রমিকদের সিন্ডিকেট করে শোষণ করা হয়। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করতে চাই।
কৃষি থেকে শুরু করে চা চাষি- প্রত্যেকটা জায়গায় যে সিন্ডিকেট হয়, এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে কৃষক যেভাবে ন্যায্যমূল্য পায়, সেটা নিশ্চিত করবো। এছাড়া এই প্রজন্মকে বাঁচাইতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স লাগবে, যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। আমরা পঞ্চগড়ে শুধু মাদক কারবারি না, যারা মাদকের ব্যবসার শেল্টারদাতা তাদেরও আশ্রয় পঞ্চগড়ে হবে না।
এই কাজগুলো যদি করে পারি, আস্তে আস্তে অন্যান্য কাজগুলো করে, অবকাঠামো উন্নয়নটা করে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট করে আমরা পঞ্চগড়কে প্রত্যাশিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
সারজিস আলম : নির্বাচনী আচরণবিধিতে যা আছে, তা সবকিছুই যথাযথভাবে আমাদের পালন করতে হবে। আমরা নিজেরাও চাই এটা পালন করতে। আমাদের নেতাকর্মীদেরও অবশ্যই এটা পালন করতে হবে। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যারা আছেন তারাও যেন এটা পালন করেন।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
সারজিস আলম : এটা শুধু আমার না, আমার দলের এবং ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত। আমাদের স্পষ্ট অবস্থান- জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। বাংলাদেশে সংস্কার প্রয়োজন, এ দেশে আর স্বৈরাচার তৈরি হতে সুযোগ দেয়া যাবে না। সেই জায়গায় বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
সারজিস আলম : আমরা প্রত্যাশা করছি-একটি সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। যেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃতপক্ষে যারা প্রতিনিধি হবে, যারা জনগণের কাছে আসবে, জনগণের কথা শুনবে, জনগণের হয়ে কথা বলবে, জনগণের দুঃখ-কষ্ট বুঝবে; তাদেরকেই মানুষ প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।
টাকার বিনিময়ে, পেশিশক্তির দ্বারা কোনো ভয়কে পরওয়া করে তারা এই ন্যায়-ইনসাফের পথ থেকে দূরে যাবে না এবং প্রশাসন, সরকার, নির্বাচন কমিশন তাদের জায়গায় স্বচ্ছ ও নির্বাচন করার জন্য যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার তা-ই নেবে। আমরা একটা স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। যেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে, ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী- এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ২৩টি ইউনিয়নের ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ১১৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ১৪৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক জন।
এ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ মনোনীত এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত দলটির জেলা কমিটির সভাপতি মাহাফুজার রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা, বাংলাদেশ লেবার পার্টি মনোনীত ফেরদাউস আলম এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সিরাজুল ইসলাম।