বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৩

দেশের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিশ্চিতে হ্যাঁ ভোট প্রয়োজন : বগুড়া-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী দবিবুর রহমান

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দবিবুর রহমান। ছবি: বাসস

বগুড়া, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দবিবুর রহমান বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ গড়ে তুলতে চাই।

বগুড়া-৫ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে বরাবরই আসনটি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। একবার জাতীয় পার্টি দখলে গেলেও কখনও আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী প্রতিনিধিত্ব করেননি। 

তবে এবার আসনটির জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও শেরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর দবিবুর রহমান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

২০১৪ সালে অংশগ্রহণমূলক উপজেলা নির্বাচনে দবিবুর রহমান বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এ ছাড়া দুই উপজেলাতেই তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দলমত নির্বিশেষে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এই নেতাকে নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অনেকেই আশার আলো দেখছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াত প্রার্থী দবিবুরের সাক্ষাতকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জেলা সংবাদদাতা কালাম আজাদ।

বাসস : আপনার স্থানীয় ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
দবিবুর রহমান: শেরপুর-ধুনটকে ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সুশাসন, নৈতিক রাজনীতি এবং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি এবং প্রচারণা সম্পর্কে আপনার নির্দেশনা কী?
দবিবুর রহমান: জামায়াতে ইসলামী সবসময় আইন ও শৃঙ্খলার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের কর্মী-সমর্থকদের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে হবে এবং কোনো উসকানিতে জড়ানো যাবে না।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
দবিবুর রহমান: জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে গণভোট অবশ্যই হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে, যেখানে মানুষের মতামত বিকৃত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। আর দেশের ভবিষৎ কাঠামো নিশ্চিতে আমি ও আমার দল ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে আছি।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
দবিবুর রহমান: আমি আশা করি, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ, জনগণের রায়ই বিজয়ী হবে।

বগুড়া-৫ আসনে এবার মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মীর মো. মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে), এলডিপির খান কুদরত ই সাকলাইন (ছাতা)।

আসনটিতে ১৮৮টি ভোট কেন্দ্রে মোট কক্ষ আছে ১ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে ৯৯৭ টি স্থায়ী ও ২৬ টি অস্থায়ী। শেরপুর উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৮৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।

ধুনট উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪২৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭১ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।